থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা
- প্রকাশের সময় : ০১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 9
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। অঞ্চলটিতে স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল’ (বিআরএন)। সাম্প্রতিক এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুয়ালালামপুরে বিআরএনের সাক্ষাৎকার
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি এই লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সংগঠনের মূল লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম কোনোভাবেই থামবে না।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘ সংঘাত
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে একটি মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, যা একসময় পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন সিয়াম রাজ্যের সঙ্গে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সংযুক্তি ঘটে।
ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে স্থানীয় মালয় মুসলিমরা ১৯৬০-এর দশক থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এরপর ২০০৪ সালে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে ‘ডিপ সাউথ ওয়াচ’-এর তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বিআরএনের নতুন শাসনকাঠামো ও প্রস্তাব
সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্যাংককের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে বিআরএন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী—
১. ৫ থেকে ১০ বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দক্ষিণাঞ্চল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায় তারা।
২. এই সময়ে স্থানীয় মুসলিমদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক পুলিশ ও আদালত ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
৩. পরবর্তীতে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অঞ্চলটির চূড়ান্ত শাসনব্যবস্থা নির্ধারণ করবে।
তবে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিআরএনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিকমাতুল্লাহ নিশ্চিত বা অস্বীকার—কোনোটিই করেননি।
শান্তি আলোচনা স্থগিত ও থাই সরকারের অবস্থান
থাইল্যান্ড ও বিআরএনের মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত জুলাই মাসে একটি হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর থাই সরকার শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত করে দিয়েছে।
থাই সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের সমাধান সম্ভব। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ ব্যাংকক। সীমান্তবর্তী এই সংঘাতের প্রভাব মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলেও পড়ার কারণে মালয়েশিয়াও এর মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।



















