Dhaka ০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনের মারিবে সেনা-হুথি তীব্র সংঘাত, নিহত ৮০

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মারিবের রাজধানী মারিব সিটির কাছে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর তীব্র সংঘাত হয়েছে। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি, প্রায় ২৪ ঘণ্টার ওই সংঘাতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় হুথিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে রোববার রাতে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা মারিবে সংঘাত চলে। একপর্যায়ে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটে পালিয়ে যায়।

সংঘাতের সময় মারিব প্রদেশজুড়ে বিমান অভিযানও চালিয়েছে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী। সেনাবাহিনীর দাবি, প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল এসব হামলার লক্ষ্য ছিল। তবে সংঘাতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি আল-হাতেমি।

ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে মারিব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে হুথিরা উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিলেও মারিব সিটির নিয়ন্ত্রণ এখনও নিতে পারেনি। হুথিদের বিভিন্ন অভিযানের কারণে প্রদেশটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে মারিবের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ২০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং ২০১৫ সালে রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের নিয়মিত সংঘাত হয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে আবারও সংঘাত বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে হুথি বাহিনী ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবও এই সংঘাতে জড়িত রয়েছে। এএফপির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত ৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে হুথিদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইয়াহিয়া আল-হাতেমির দেওয়া আরও কিছু দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তার দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির তথ্য জানায়, তা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অনেক কম। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন।

মারিবে সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাতে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং উভয় পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনও সীমিত।

সূত্র: আরব নিউজ, এএফপি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইয়েমেনের মারিবে সেনা-হুথি তীব্র সংঘাত, নিহত ৮০

প্রকাশের সময় : ১১:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মারিবের রাজধানী মারিব সিটির কাছে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর তীব্র সংঘাত হয়েছে। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি, প্রায় ২৪ ঘণ্টার ওই সংঘাতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় হুথিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে রোববার রাতে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা মারিবে সংঘাত চলে। একপর্যায়ে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটে পালিয়ে যায়।

সংঘাতের সময় মারিব প্রদেশজুড়ে বিমান অভিযানও চালিয়েছে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী। সেনাবাহিনীর দাবি, প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল এসব হামলার লক্ষ্য ছিল। তবে সংঘাতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি আল-হাতেমি।

ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে মারিব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে হুথিরা উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিলেও মারিব সিটির নিয়ন্ত্রণ এখনও নিতে পারেনি। হুথিদের বিভিন্ন অভিযানের কারণে প্রদেশটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে মারিবের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ২০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং ২০১৫ সালে রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের নিয়মিত সংঘাত হয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে আবারও সংঘাত বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে হুথি বাহিনী ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবও এই সংঘাতে জড়িত রয়েছে। এএফপির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত ৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে হুথিদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইয়াহিয়া আল-হাতেমির দেওয়া আরও কিছু দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তার দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির তথ্য জানায়, তা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অনেক কম। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন।

মারিবে সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাতে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং উভয় পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনও সীমিত।

সূত্র: আরব নিউজ, এএফপি