রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

বিদেশ সফরে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব: গাভাস্কার পড়েছিলেন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 6
বিদেশ সফরে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব: গাভাস্কার পড়েছিলেন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে

বিদেশ সফরে খেলার বাইরে ক্রিকেটারদের জীবনটা কেমন, কীভাবে কাটে তাঁদের সময়? অন্য দেশ, অন্য সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে গিয়ে কী কী সমস্যায় পড়েন তাঁরা? এ নিয়ে নিজের আত্মজীবনী ‘সানি ডেজ’-এ একটা অধ্যায় লিখেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। বিদেশ সফরে তিনি কীভাবে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন, লিখেছেন সেই গল্পও। তবে পড়ার সময় পাঠকদের মনে রাখতে হবে, ‘সানি ডেজ’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। গল্পগুলো সেই সময়ের। টেস্ট ক্রিকেটে ১০১২২ রানের মালিক গাভাস্কার পরে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে একাধিক আত্মজীবনীসহ লিখেছেন আরও অনেকগুলো বই।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

ক্রিকেটারদের একটা প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয়—বিদেশ সফরে কেমন কাটে? বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, বিদেশ সফর মানেই বুঝি শুধুই আনন্দ। কিন্তু এটা পুরোপুরি সত্যি নয়। আনন্দ আছে, তবে এর পাশাপাশি কষ্টও কম নয়।একটা নতুন দেশে গেলে প্রথম সমস্যাটাই হলো ভাষা আর খাবার। ভারতীয় দলের সবাই ভালোভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না, বুঝতেও পারে না। বিদেশি উচ্চারণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতেই সফরের প্রায় অর্ধেকটা শেষ হয়ে যায়। যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজে সাধারণ মানুষ যে ইংরেজিতে কথা বলে, সেটার ব্যাকরণ বলতে কিছু থাকে না। ওদের কথা বোঝা বেশ কঠিন।

ইমরান খানকে মা বলেছিলেন, ‘বিদেশি বউ আনিস না’

খাবারও আরেকটা বড় সমস্যা। বিদেশের খাবার এতই বিস্বাদ যে ভারতীয় দলের ছেলেরা পেট ভরানোর মতো কিছু খুঁজে পায় না। দলের দক্ষিণ ভারতীয় খেলোয়াড়েরা ভাত খেতে চান, আর উত্তর ভারতীয়দের মন চায় মসলাদার খাবার। তবে ইংল্যান্ডে অনেক ভারতীয় রেস্তোরাঁ আছে, আর অনেক পরিবারও ক্রিকেটারদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ায়।সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় পরিবারগুলো এত বেশি আপ্যায়ন করেছিল যে খেলোয়াড়েরা একপর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। নিউজিল্যান্ডে রেস্তোরাঁগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছিল। দক্ষিণ ভারতীয় ছেলেরা ভাত খাওয়ার জন্য চাইনিজ রেস্তোরাঁয় যেত, উত্তর ভারতীয়দের খাবার শেষ হতো চিলি সসের বোতল খালি করে।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

আবহাওয়াও আরেকটা ব্যাপার, যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেক সময় লাগে। তবে উত্তর ভারতের খেলোয়াড়েরা ঠান্ডার সঙ্গে যতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, পশ্চিম ও দক্ষিণের খেলোয়াড়দের জন্য তা কঠিন। কারণ, তাদের অঞ্চলে তেমন শীত পড়ে না। চারটা সোয়েটার পরে ক্রিকেট খেলা মোটেও আরামদায়ক নয়। হাত পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে রাখতে যখন শেষ মুহূর্তে বল ধরা লাগে, তখন ক্যাচ হাতছাড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি এমন কয়েকজন খেলোয়াড়কে চিনি, যারা বিদেশের ঠান্ডা আবহাওয়ার কথা ভেবে প্লেনেই ঠান্ডা লাগিয়ে ফেলে!

ক্রিকেট ধারাভাষ্যের পাঁচ শিক্ষক: রবি শাস্ত্রী যা শিখেছেন তাঁদের কাছ থেকে

এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়াটাও মাঝে মাঝে ক্লান্তিকর মনে হয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে এটা খুবই ঝামেলার। ম্যাচের শেষ সকালে খেলোয়াড়দের হোটেল ছাড়তে হয়, সন্ধ্যায় মাঠের বাইরে তাদের জন্য বাস অপেক্ষা করে। সেই বাসে করে তারা পরের ম্যাচের জন্য রওনা দেয়। কাউন্টিতে থাকা হয় মাত্র দুই দিন, তৃতীয় সকালে আবার রওনা। তাই অনেকেই স্যুটকেস খুলতেই চায় না। অনেক সময় তো নতুন কাউন্টিতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, আর রুম পেতে পেতে প্রায় ভোর।১৯৭১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আমরা সেন্ট কিটস থেকে ত্রিনিদাদে পৌঁছেছিলাম সকালে। তারপর ৪০ মাইল গাড়িতে করে গিয়ে আমাদের খেলতে যেতে হয়েছিল। সবাই তখনো প্রায় ঘুমে! ভাগ্য ভালো, অজিত ওয়াদেকার টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন। আমি আর অশোক মানকড় যখন ইনিংস ওপেন করতে যাচ্ছিলাম, তখন আমাদের বলা হয়েছিল—যতক্ষণ সম্ভব যেন ব্যাটিং করি, যাতে বাকিরা ঘুমাতে পারে। ৩ নম্বরে নামার কথা সেলিম দুরানির। তিনি আমাদের বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ পারো ব্যাটিং করো, প্লিজ শট খেলো না! আমি নামলে প্যাড পরেই ঘুমিয়ে যাব।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিদেশ সফরে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব: গাভাস্কার পড়েছিলেন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে

প্রকাশের সময় : ০৮:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিদেশ সফরে খেলার বাইরে ক্রিকেটারদের জীবনটা কেমন, কীভাবে কাটে তাঁদের সময়? অন্য দেশ, অন্য সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে গিয়ে কী কী সমস্যায় পড়েন তাঁরা? এ নিয়ে নিজের আত্মজীবনী ‘সানি ডেজ’-এ একটা অধ্যায় লিখেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। বিদেশ সফরে তিনি কীভাবে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন, লিখেছেন সেই গল্পও। তবে পড়ার সময় পাঠকদের মনে রাখতে হবে, ‘সানি ডেজ’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। গল্পগুলো সেই সময়ের। টেস্ট ক্রিকেটে ১০১২২ রানের মালিক গাভাস্কার পরে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে একাধিক আত্মজীবনীসহ লিখেছেন আরও অনেকগুলো বই।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

ক্রিকেটারদের একটা প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয়—বিদেশ সফরে কেমন কাটে? বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, বিদেশ সফর মানেই বুঝি শুধুই আনন্দ। কিন্তু এটা পুরোপুরি সত্যি নয়। আনন্দ আছে, তবে এর পাশাপাশি কষ্টও কম নয়।একটা নতুন দেশে গেলে প্রথম সমস্যাটাই হলো ভাষা আর খাবার। ভারতীয় দলের সবাই ভালোভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না, বুঝতেও পারে না। বিদেশি উচ্চারণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতেই সফরের প্রায় অর্ধেকটা শেষ হয়ে যায়। যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজে সাধারণ মানুষ যে ইংরেজিতে কথা বলে, সেটার ব্যাকরণ বলতে কিছু থাকে না। ওদের কথা বোঝা বেশ কঠিন।

ইমরান খানকে মা বলেছিলেন, ‘বিদেশি বউ আনিস না’

খাবারও আরেকটা বড় সমস্যা। বিদেশের খাবার এতই বিস্বাদ যে ভারতীয় দলের ছেলেরা পেট ভরানোর মতো কিছু খুঁজে পায় না। দলের দক্ষিণ ভারতীয় খেলোয়াড়েরা ভাত খেতে চান, আর উত্তর ভারতীয়দের মন চায় মসলাদার খাবার। তবে ইংল্যান্ডে অনেক ভারতীয় রেস্তোরাঁ আছে, আর অনেক পরিবারও ক্রিকেটারদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ায়।সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় পরিবারগুলো এত বেশি আপ্যায়ন করেছিল যে খেলোয়াড়েরা একপর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। নিউজিল্যান্ডে রেস্তোরাঁগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছিল। দক্ষিণ ভারতীয় ছেলেরা ভাত খাওয়ার জন্য চাইনিজ রেস্তোরাঁয় যেত, উত্তর ভারতীয়দের খাবার শেষ হতো চিলি সসের বোতল খালি করে।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

আবহাওয়াও আরেকটা ব্যাপার, যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেক সময় লাগে। তবে উত্তর ভারতের খেলোয়াড়েরা ঠান্ডার সঙ্গে যতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, পশ্চিম ও দক্ষিণের খেলোয়াড়দের জন্য তা কঠিন। কারণ, তাদের অঞ্চলে তেমন শীত পড়ে না। চারটা সোয়েটার পরে ক্রিকেট খেলা মোটেও আরামদায়ক নয়। হাত পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে রাখতে যখন শেষ মুহূর্তে বল ধরা লাগে, তখন ক্যাচ হাতছাড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি এমন কয়েকজন খেলোয়াড়কে চিনি, যারা বিদেশের ঠান্ডা আবহাওয়ার কথা ভেবে প্লেনেই ঠান্ডা লাগিয়ে ফেলে!

ক্রিকেট ধারাভাষ্যের পাঁচ শিক্ষক: রবি শাস্ত্রী যা শিখেছেন তাঁদের কাছ থেকে

এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়াটাও মাঝে মাঝে ক্লান্তিকর মনে হয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে এটা খুবই ঝামেলার। ম্যাচের শেষ সকালে খেলোয়াড়দের হোটেল ছাড়তে হয়, সন্ধ্যায় মাঠের বাইরে তাদের জন্য বাস অপেক্ষা করে। সেই বাসে করে তারা পরের ম্যাচের জন্য রওনা দেয়। কাউন্টিতে থাকা হয় মাত্র দুই দিন, তৃতীয় সকালে আবার রওনা। তাই অনেকেই স্যুটকেস খুলতেই চায় না। অনেক সময় তো নতুন কাউন্টিতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, আর রুম পেতে পেতে প্রায় ভোর।১৯৭১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আমরা সেন্ট কিটস থেকে ত্রিনিদাদে পৌঁছেছিলাম সকালে। তারপর ৪০ মাইল গাড়িতে করে গিয়ে আমাদের খেলতে যেতে হয়েছিল। সবাই তখনো প্রায় ঘুমে! ভাগ্য ভালো, অজিত ওয়াদেকার টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন। আমি আর অশোক মানকড় যখন ইনিংস ওপেন করতে যাচ্ছিলাম, তখন আমাদের বলা হয়েছিল—যতক্ষণ সম্ভব যেন ব্যাটিং করি, যাতে বাকিরা ঘুমাতে পারে। ৩ নম্বরে নামার কথা সেলিম দুরানির। তিনি আমাদের বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ পারো ব্যাটিং করো, প্লিজ শট খেলো না! আমি নামলে প্যাড পরেই ঘুমিয়ে যাব।’