‘পাগলাটে’ দুই শট থেকে ‘হৃদয় নিংড়ানো’ মাস্টারক্লাস

- প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 1

প্রথম সেশনে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর দুইশর আগে শেষ হওয়ার পথে ছিল বাংলাদেশের ইনিংস। তাওহিদ হৃদয় লড়ছিলেন বটে, তবে প্রবল আশাবাদীরও ভরসা ছিল না তিনি এমন কিছু করে ফেলবেন! মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসে বিস্ময়কর দুই শটে আত্মাহুতি দিয়ে রোষানলে পড়া ডানহাতি ব্যাটার লিখলেন ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট দেখল অবিস্মরণীয় এক দিন।
খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়া প্রথম ব্যাটার তিনি। মাত্র তৃতীয় টেস্টেই খেলে ফেললেন টেস্টে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আগামীতে টেস্টে যার বিকল্প হিসেবে মিডল অর্ডারে ভাবা হয় তাকে, সেই মুশফিকুর রহিমের ২১৯ ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। তামিম ইকবালের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭ ছক্কা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার মালিকও বনে গেলেন এই ব্যাটার। ১১ ছক্কা মারা হৃদয় বিশ্ব রেকর্ডেরও ছিলেন খুব কাছে।
তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৮ম উইকেটে ১১৭ রান, যা সিলেটের মাঠে ৮ম উইকেটে সর্বোচ্চ।
হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৮৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে দেড়শো রানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে উল্টো ৩০ রানের লিড নিয়ে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
গতকাল বিকেলে যখন হৃদয় ক্রিজে যান, দল ছিল চাপে। তিনি থিতু হওয়ার আগে সেই চাপ বাড়ে আরও। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ে চরম ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ মুশফিককে নিয়ে শেষ বিকেলের কঠিন সময় পার করেন। মিরপুরের পাগলামি থেকে শিক্ষা নিয়েই হয়তো ছিলেন অতি সতর্ক।
ক্রিজ আগলে পড়ে পরের দিনের জন্য তুলে রাখেন সব। তৃতীয় দিন সকালে নেমেই দেখান অভিপ্রায়। রানের চাকায় আনেন গতি। আলগা বল সীমানাছাড়া করতে থাকেন অনায়াসে। মুশফিকের সঙ্গে জুটি জমে ওঠার আভাস দিতেই জোড়া ধাক্কায় নড়ে ওঠে বাংলাদেশ। জোমেল ওয়ারিকনের ফাঁদে পড়ে পরপর ফিরে যান মুশফিক ও লিটন দাস।
মেহেদী হাসান মিরাজ অনেক সময় শেষ দিকে গড়েন প্রতিরোধ, তিনি এবার পারেননি। টিকতে পারেননি হাসান মাহমুদও। এরপরই ইতিহাস। বল হাতে বিবর্ণ থাকা তাইজুল ইসলাম দায়িত্ব নেন ব্যাট হাতে হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার।






















