শাবানা–শাবনূরের ভক্ত এখন নিজেই অভিনেত্রী

- প্রকাশের সময় : ১০:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 9

‘বিষপাখি, ‘পেট্রোল ও ‘আহা একি মায়া’—সম্প্রতি এই তিন নাটকে অভিনয় করে আলোচিত মাফতুহা জান্নাত। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরুর পর মাঝখানে বিরতি। পড়াশোনা শেষে আবার নতুন করে শুরু করেছেন দর্শকের কাছে জীম নামে পরিচিতি পাওয়া এই তরুণ অভিনেত্রী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য
শাবানা ও শাবনূরের ভক্ত ছিলেন। ছোটবেলায় তাঁদের সিনেমা দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন। যদিও শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনম বিশ্বাস পরিচালিত দেবী সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। সিনেমাটিতে রানুর (জয়া আহসান) ছোটবেলার স্মৃতিচারণার অংশে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তবে শৈশবের সেই অভিনয়যাত্রা নিয়মিত হয়নি। পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ বিরতি। ২০২৩ সালে আবার ফেরেন। বাবু সিদ্দিকীর পরিচালনায় ‘সিক্রেট গার্লফ্রেন্ড’ ছিল তাঁর প্রথম নাটক। কীভাবে সুযোগ মিলল? জীম বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে বাবু সিদ্দিকী ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। আমার অভিনয়ের আগ্রহের কথা জেনে তিনি সুযোগ দিয়েছিলেন। এভাবেই শুরু।’টার্নিং পয়েন্ট ‘যত্ন’অভিনয়ে ফেরার পর কাজ করলেও জীমের কাছে বিশেষ হয়ে আছে মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘যত্ন’। জীমের ভাষায়, ‘“যত্ন” নাটকটি আমার টার্নিং পয়েন্ট। এই নাটকের ইরা চরিত্র দর্শক বেশ পছন্দ করেছিলেন। এখনো দর্শক দূর থেকে ইরা নাম ধরে ডাকেন। আরশ খান ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে দর্শক খুব পছন্দ করেন। এই কাজ দর্শক পছন্দ করায় সকাল আহমেদ ভাই নির্মাণ করেন ‘দোষটা কার?’ এই নাটকেও দর্শক আমাদের জুটি পছন্দ করেন। এ নাটকে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে আমাকে চরিত্রের জটিল মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তুলতে হয়েছিল, যা অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উসকে দিয়েছিল। কাজটি প্রকাশের পর সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলাম, এটা আমার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই কাজের পর থেকেই নির্মাতারা আমাকে আরও চ্যালেঞ্জিং এবং মূলধারার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর জন্য বিবেচনা করা শুরু করেন।’
তিন নাটকে তিন রকমসাম্প্রতিক সময়ে জীমের আলোচনায় থাকার বড় কারণ তিনটি নাটক—‘বিষপাখি’, ‘পেট্রোল’ ও ‘আহা একি মায়া’। তিনটি নাটকের গল্প ও চরিত্রে রয়েছে ভিন্নতা। জীমের কাছেও প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতা আলাদা। ‘বিষপাখি নাটকে ভিকি জাহেদের পরিচালনায় কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ। সাধারণ একটি মেয়ের চরিত্রে কাজ করতে গিয়েও আবেগের অনেকগুলো স্তর ভাঙতে হয়েছে। চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।’ পেট্রোল নাটকে সহশিল্পী জোনায়েদ বোগদাদীর সঙ্গে তাঁর রসায়ন দর্শকের ভালো লাগার একটি কারণ বলে মনে করেন জীম। ‘আহা একি মায়া’য় আরশ খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। রোমান্টিক ঘরানার এই নাটকে রয়েছে পারিবারিক আবহ ও আবেগের মিশেল।তিনটি নাটক দর্শকের ভালো লাগার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জীম বলেন, ‘দর্শক এখন একঘেয়ে গল্প দেখতে চান না। তিনটি নাটকের গল্প একটির চেয়ে অন্যটি সম্পূর্ণ আলাদা। রোমান্স, ড্রামা থেকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার—বিভিন্ন ধরনের গল্পে দর্শক নতুনত্ব পেয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রে চেষ্টা করেছি যেন অতি অভিনয় না হয়। সাধারণ মানুষ যেন নিজের জীবনের সঙ্গে চরিত্রগুলো মেলাতে পারেন। চরিত্রের চেনা রূপ ও বাস্তবতাই দর্শকের মন ছুঁয়েছে বলে মনে করি।’
নতুনদের জন্য সুযোগ কমঅভিনয়জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জীমের মতে, অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক নতুন অভিনেতা–অভিনেত্রীদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে শুরুতে একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব বেশি আসে। অভিনয়দক্ষতা প্রমাণের জন্য বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্র পাওয়া নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জীম বলেন, ‘শুরুতে আমাকেও এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুনদেরও প্রতিভা আছে। তাঁদের সুযোগ দেওয়া দরকার।’নাট্যকলায় পড়াশোনা করছেন জীম। এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর অভিনয়কে আরও পরিণত করতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন তিনি। একটি চরিত্রের মানসিক অবস্থা, সামাজিক পটভূমি ও আবেগ বিশ্লেষণ করতে নাট্যকলার পড়াশোনা কাজে লাগে। পাশাপাশি কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, শুদ্ধ উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি নিয়েও প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা
অভিনয়ে শরীরী ভাষার গুরুত্বও এই পড়াশোনার মাধ্যমে বুঝতে শিখেছেন। জীমের কথায়, ‘অভিনয়ে শুধু সংলাপ বললেই হয় না। চোখের ইশারা কিংবা শরীরের ছোট্ট কোনো অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। কীভাবে অতিরঞ্জন না করে একটি চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, নাট্যকলার পড়াশোনা আমাকে তা শিখিয়েছে। স্ক্রিপ্ট পড়ার পর এর ভেতরের মূল ভাবনা বুঝতেও সুবিধা হয়। পরিচালকের চাওয়া অনুযায়ী অভিনয় করতে এটি অনেক সাহায্য করে।’
তরুণ অভিনেত্রী লাবণ্যকে কতটা চেনেন
পর্দায় দেখতে চান শক্তিশালী নারীর গল্পভবিষ্যতে কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান জীম? নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার নাম বলতে চাননি তিনি; বরং সব নির্মাতার সঙ্গেই তাঁর কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। তবে চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিতে চান। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে, এমন চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তাঁর। সাদা–কালো বিভাজনের বাইরে পর্দায় তুলে ধরতে চান মানুষের মনের নানা রূপ। পাশাপাশি বাস্তব জীবনের শক্তিশালী নারীদের গল্পও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনতে চান।























