Dhaka ০৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ফের আগুন মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কওমি ঘরানার ৭ দলের জোট ‘সমমনা ইসলামী দল’ ৯৬’র মতো আবারো আ. লীগের সঙ্গে জোট করেছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন হরমুজে বিপদের ঘণ্টা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকি মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খুলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নওগাঁয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেপ্তার কোটালীপাড়ায় বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর দেড় মিনিটের বক্তব্যে মন্ত্রীকে ২৫ বার ‘স্যার’, ফের আলোচনায় ইউএনও

হরমুজে বিপদের ঘণ্টা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে সতর্ক করেছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনু।

তার মতে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুমকি পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জাহাজগুলো অনুমতি ছাড়াই প্রণালিটি অতিক্রম করছিল।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের চলাচল অব্যাহত থাকলে তেহরান হামলার পরিধি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হুদিস্তেনু বলেন, ইরানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর আওতায় থাকতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে। অর্থাৎ, দুই পক্ষই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে অপর পক্ষকে সতর্ক করার চেষ্টা করছে। তবে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

হুদিস্তেনু বলেন, “এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিপদের প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।” তার মতে, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও হুমকির ভাষা উত্তেজনা প্রশমনে কোনও সহায়তা করছে না।

আলোচনা এগোচ্ছে না
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টাও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন এই সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হুদিস্তেনু বলেন, আলোচনাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং এগিয়ে নেওয়া কঠিন। কারণ, এই মুহূর্তে মৌলিক বিষয়গুলোতেও দুই পক্ষের মধ্যে কার্যত কোনও ঐকমত্য নেই।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ইরান যদি হামলার পরিধি বাড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সামুদ্রিক পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আন্তর্জাতিক সরবরাহের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি এবং দুই পক্ষের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আলোচনায় অগ্রগতি না এলে এই উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হরমুজে বিপদের ঘণ্টা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকি

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে সতর্ক করেছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনু।

তার মতে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুমকি পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জাহাজগুলো অনুমতি ছাড়াই প্রণালিটি অতিক্রম করছিল।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের চলাচল অব্যাহত থাকলে তেহরান হামলার পরিধি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হুদিস্তেনু বলেন, ইরানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর আওতায় থাকতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে। অর্থাৎ, দুই পক্ষই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে অপর পক্ষকে সতর্ক করার চেষ্টা করছে। তবে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

হুদিস্তেনু বলেন, “এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিপদের প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।” তার মতে, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও হুমকির ভাষা উত্তেজনা প্রশমনে কোনও সহায়তা করছে না।

আলোচনা এগোচ্ছে না
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টাও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন এই সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হুদিস্তেনু বলেন, আলোচনাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং এগিয়ে নেওয়া কঠিন। কারণ, এই মুহূর্তে মৌলিক বিষয়গুলোতেও দুই পক্ষের মধ্যে কার্যত কোনও ঐকমত্য নেই।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ইরান যদি হামলার পরিধি বাড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সামুদ্রিক পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আন্তর্জাতিক সরবরাহের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি এবং দুই পক্ষের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আলোচনায় অগ্রগতি না এলে এই উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা