রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত
- প্রকাশের সময় : ১০:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 7
ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় দেশটিতে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।
চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনটির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। পাঁচতলা ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোয় পরিণত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। আহতদের মধ্যে অন্তত সাতজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, হামলার সময় তারা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের ঘরের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। তিনি ও তার স্বামী নিজেদের শরীর দিয়ে সন্তানকে আগলে রাখেন। এতে স্বামীর পিঠসহ তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়।
তিনি জানান, হামলার সময় তাদের সন্তান প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তারা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন। তখন পুরো অ্যাপার্টমেন্ট তছনছ হয়ে যাচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে রুশ হামলা শুরু হয়। এর আগের দিন মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। সম্ভাব্য হামলায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলার মাত্রা বেড়েছে। রাজধানী কিয়েভেও প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো এএফপিকে বলেন, তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন। তার ভাষ্য, পুরো কিয়েভ শহর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এবং কর্মস্থলেও সবাইকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছিল।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
জেলেনস্কি এ হামলাকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছাকাছি বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই প্রশ্ন করেন, এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়া কী সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
সূত্র: এএফপি




















