সেনা পাহারায় আল-আকসায় ইসরায়েলিদের ঢল
- প্রকাশের সময় : ০৯:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে একদিনে এক হাজার ১৪৩ জন ইসরায়েলি প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাদের সুরক্ষায় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধর্মীয় প্রার্থনা ও বিভিন্ন আচার পালনের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার ফিলিস্তিনি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বিভিন্ন এলাকার প্রশাসনিক বিষয় তদারক করা জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ওই ব্যক্তিরা আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের আঙিনায় প্রবেশ করেন।
ফিলিস্তিনি গভর্নরেটের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রবেশের পর তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে ধর্মীয় প্রার্থনা ও বিভিন্ন আচার পালন করেন।
এক বিবৃতিতে গভর্নরেট বলেছে, আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগতভাবে স্বীকৃত ‘স্ট্যাটাস কুও’ বা প্রচলিত স্থিতাবস্থা লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটেছে।
আল-আকসাকে ঘিরে উত্তেজনা
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান। একই স্থান ইহুদিদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এলাকাটিকে টেম্পল মাউন্ট নামে অভিহিত করে।
দীর্ঘদিন ধরে এই পবিত্র স্থানটির প্রবেশাধিকার ও সেখানে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনাকে ঘিরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে।
আল-আকসা প্রাঙ্গণ পরিচালনা ও সেখানে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস কুও’ অনুসরণ করা হয়। এর আওতায় মুসলিমরা সেখানে নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় ইবাদত পালন করেন। ইহুদি দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও সেখানে প্রার্থনা করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের নিয়মিত প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনায় এই প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।
আল-আকসা নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি হচ্ছে
আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খালেদ মেশাল।
শনিবার তিনি সতর্ক করে বলেন, আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন পদক্ষেপ ‘পবিত্র স্থানটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে’।
মেশালের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আল-আকসাকে ঘিরে ফিলিস্তিনি পক্ষের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে যেকোনও পরিবর্তন বা সেখানে ধর্মীয় আচারের ধরন নিয়ে বিতর্ক অতীতে জেরুজালেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ফলে সেখানে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের মতো ঘটনা ফিলিস্তিনি পক্ষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, আল-আকসার ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান এবং প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, আল-আকসা প্রাঙ্গণকে ঘিরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং এর সঙ্গে জেরুজালেমের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মর্যাদার প্রশ্নও গভীরভাবে জড়িত।
ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলির আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের ঘটনা নতুন করে ওই পবিত্র স্থানটির নিরাপত্তা, ধর্মীয় অধিকার এবং ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা নিয়ে বিতর্ক সামনে এনেছে। সূত্র: আল-জাজিরা






















