আরেকটি মার্কিন ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ জব্দের দাবি ইরানের
- প্রকাশের সময় : ০৫:০৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন (পানির নিচের ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স।
আইআরজিসির দাবি, জব্দ করা আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি একটি উন্নত প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সাবমার্সিবল, যার নাম ‘রেমাস ৬০০’। বর্তমানে এটি আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হেফাজতে রয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা তথ্য উদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
ফার্স নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোনটি জব্দ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি জটিল ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর উন্নতমানের ওই ড্রোন জব্দ করতে সক্ষম হন।
আইআরজিসি ড্রোনটিকে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছে।
কীভাবে ড্রোনটি জব্দ করা হলো?
ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনী গোয়েন্দা তথ্য ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যবহার করে সেটির গতিবিধি শনাক্ত করে। এরপর একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে ইরান।
তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায়, কখন এবং কীভাবে জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইআরজিসি বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি। একইভাবে ড্রোনটির সঙ্গে কোনও মার্কিন সামরিক সদস্য বা অন্য কোনও যান জড়িত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
‘রেমাস ৬০০’ কী?
ইরানের দাবি করা ড্রোনটি ‘রেমাস ৬০০’ নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন। এ ধরনের যান সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের জরিপ, নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক গবেষণায় ব্যবহৃত হতে পারে।
এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন চালানোর জন্য সরাসরি কোনও মানবচালকের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট রুট ও মিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো পানির নিচে চলাচল করতে পারে এবং বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
ইরানের দাবি সত্য হলে, ড্রোনটি জব্দ করা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এর ভেতরে থাকা তথ্য, সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মিশনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে ইরান।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়টিকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের ইরানি দাবি দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও একটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের দাবি করে আইআরজিসি। পরে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে জানায়, সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেই
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমে আইআরজিসির এই দাবি প্রকাশ করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফলে ইরান যে ড্রোনটি জব্দ করেছে বলে দাবি করছে, সেটি সত্যিই মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ‘রেমাস ৬০০’ কি না এবং সেটি কোনও গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত ছিল কি না- তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে ড্রোনটি বর্তমানে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এর মাধ্যমে ড্রোনটির সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগও তেহরান পেতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে এমন একটি ঘটনা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। সূত্র: আল-জাজিরা
























