Dhaka ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখঢাকা নিষিদ্ধ জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ সেবা পাবে যশোরবাসী মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদলের আগাম সমালোচনা বিভ্রান্তিকর: রিজভী জামায়াত-আওয়ামী লীগের ‘পুরোনো প্রেম’ নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের মাজবাড়ীর বাগগাড়ীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবু মোল্লার উঠান বৈঠক বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী কালুখালীতে এনসিপির ৬ মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি

চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে এ বিষয়ে চুক্তি করা সম্ভব।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন এ প্রস্তাব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের ওপর নির্ভর করছে।

আরাঘচি জানান, নতুন প্রস্তাবে উল্লেখ করা শর্তগুলোর মধ্যে নতুন কিছু নেই। এগুলো গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ করা হয়েছিল।

ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুটিও রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায়। একই সময় ইরান হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

আরাঘচি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যেতে পারে। সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল হতে পারে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মার্কিনিদের কাছে দেওয়া শর্তগুলো ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে। নতুন কোনো শর্ত এতে যোগ করা হয়নি।

গত ১৮ জুন ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও ছিল।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার কথাও ওই সমঝোতায় উল্লেখ ছিল।

তবে দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়।

পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অনুমোদনবিহীন রুট দিয়ে চলাচল করায় এসব জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

সূত্র: বিবিসি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে এ বিষয়ে চুক্তি করা সম্ভব।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন এ প্রস্তাব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের ওপর নির্ভর করছে।

আরাঘচি জানান, নতুন প্রস্তাবে উল্লেখ করা শর্তগুলোর মধ্যে নতুন কিছু নেই। এগুলো গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ করা হয়েছিল।

ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুটিও রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায়। একই সময় ইরান হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

আরাঘচি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যেতে পারে। সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল হতে পারে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মার্কিনিদের কাছে দেওয়া শর্তগুলো ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে। নতুন কোনো শর্ত এতে যোগ করা হয়নি।

গত ১৮ জুন ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও ছিল।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার কথাও ওই সমঝোতায় উল্লেখ ছিল।

তবে দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়।

পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অনুমোদনবিহীন রুট দিয়ে চলাচল করায় এসব জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

সূত্র: বিবিসি