ছেলে ও নাতির হাত থেকে বাঁচতে পুলিশের দ্বারস্থ ৯০ বছরের বৃদ্ধা
- প্রকাশের সময় : ১২:২১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 19
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছেলে, নাতি ও পরিবারের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে নিজের ও দুই নাতনির সুরক্ষা চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা।
গত শুক্রবার বালিয়াকান্দি থানায় অভিযোগটি করেন কুলসুম বেগম নামের ওই বৃদ্ধা। অভিযোগে তিনি ছেলে ইমান আলী শেখ, নাতি মিলন শেখ ও ইমরান শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
অভিযোগে কুলসুম বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তাঁর ছেলে ইমান আলী শেখ তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে তিনি বাড়িতে বসবাস করতে না পেরে পাশের এলাকায় নিজের নামে জমি কিনে দুই নাতনি শান্তা ও ফারজানাকে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁর দাবি, ওই জমির এসএ ও বিএস খতিয়ান নম্বর ৫৫৭ এবং রেকর্ড তাঁর নিজের নামে রয়েছে।
বৃদ্ধার অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিয়মিত কোনো কাজ করেন না এবং তাঁকে ভরণপোষণও দেন না। বরং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হয়। একইভাবে সংসারের অভাব-অনটন ও সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে তাঁর দুই নাতনির কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কুলসুম বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির অধিকাংশই অভিযুক্তরা বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকেও ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি বিক্রি করে টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় প্রায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি অভিযুক্তরা টাকা নিয়ে তাঁর দুই নাতনি ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাদকের টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মিলন শেখ নাতনি ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে কুলসুম বেগম ও তাঁর দুই নাতনি সেখানে গিয়ে ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করেন। এ সময় মিলন শেখ বৃদ্ধাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ইমরান শেখ ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে তেড়ে এসে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন কুলসুম বেগম।
এর আগেও হুমকি ও মারধরের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে ২০১৬ সালে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন কুলসুম বেগম। অভিযোগে ওই সাধারণ ডায়েরির নম্বর ৭৩২ উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি তাঁর নামে রেকর্ডভুক্ত ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ-সংক্রান্ত মামলার নোটিশ গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ও দুই নাতনির নামে আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
কুলসুম বেগমের অভিযোগ, গত দুই দিন ধরে এবং ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মিলন শেখ তাঁর পুকুরে মাছ ধরছেন। একই সময়ে ইমরান শেখকেও সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না বলে জানান।
বৃদ্ধার আশঙ্কা, ছেলে ও দুই নাতির উল্লেখযোগ্য আয়-রোজগার না থাকায় এবং তিনি জীবিত থাকায় সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। এ কারণে নিজের ও দুই নাতনির জীবন এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
কুলসুম বেগমের নাতনি শান্তা খাতুন বলেন, ‘নানির ভরণপোষণ আমরাই করি। তাঁর ছেলে বা নাতি মিলন ও ইমরান কোনো ধরনের ভরণপোষণ দেন না। উল্টো জমি আত্মসাতের চেষ্টা ও বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে নানা সময় নানির কাছ থেকে টাকা নেন। মামা ও তাঁর ছেলেরা নিজেদের সব জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছেন। এখন নানি ও আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, মিলন শেখ অতীতেও তাঁর দাদিকে মারধর করেছেন এবং ইমরান শেখও তাঁকে মারধরের জন্য উদ্যত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইমান আলী শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর ছেলে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান। পরে মিলন শেখের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রব তালুকদার বলেন, বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























