তীব্র স্রোতে দুই দিন ধরে বন্ধ ফেরি
রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া-পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি
- প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যানবাহন ঘাট থেকে ফিরে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও বিকল্প পথে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন। তবে এসব নৌযানে ওঠার সময় অনেক যাত্রীর শরীরে লাইফ জ্যাকেট দেখা যায়নি। ফলে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের মধ্যে এভাবে নদী পারাপার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যা থেকে পদ্মা নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে যায়। এতে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাওয়াপাড়া ঘাটে থাকা দুটি ফেরির মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অপর ফেরিটিও নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে যানবাহন নিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। ফলে পুরো নৌরুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ধাওয়াপাড়া ঘাটে ফেরি চলাচলে প্রায়ই নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ঘাটে থাকা ফেরিগুলো পুরোনো ও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। একটি ফেরি কয়েক মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকায় অন্য একটি ফেরির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। নদীতে স্রোত বাড়লেই সেই ফেরিটিও চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়।
ধাওয়াপাড়া ঘাটের স্থানীয় দোকানদার আজমল মন্ডল বলেন, ‘এই ঘাটের একটি ফেরি দুই থেকে তিন মাস আগেই নষ্ট হয়ে বন্ধ হয়ে আছে। যে ফেরিটি চলাচল করত, সেটিও কয়েক দিন ধরে বন্ধ। এখানে ভালো কোনো ফেরি নেই। মাঝেমধ্যেই ফেরি চলাচলে সমস্যা হয়। এখন পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।’
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা। ধাওয়াপাড়া দিয়ে পদ্মা পার হয়ে পাবনাসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতকারী মানুষকে এখন বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে যাতায়াতের খরচ।
ফরিদপুর থেকে ধাওয়াপাড়া ঘাটে আসা সুরাইয়া রহমান বলেন, ‘আমার নানুবাড়ি পাবনায়। সে কারণে ঘাটে এসেছিলাম। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় ফিরে যাচ্ছি। নদীতে প্রচুর স্রোত ও ঢেউ। এ অবস্থায় ট্রলারে ওঠা ঠিক হবে না। আমার আব্বুও ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে নিষেধ করেছেন।’
এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন অনেকে। যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় স্পিডবোটের ভাড়াও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহারিকা রহমান বলেন, ‘স্পিডবোটের ভাড়া এখন ১৫০ টাকা করে নিচ্ছে। আগে ১০০ টাকা ছিল। আর ফেরির ভাড়া ছিল ৪০ টাকা। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে স্পিডবোটে যেতে হচ্ছে।’
ঘাটে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ পরিস্থিতি বুঝে ঘাট থেকে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রেও বাড়ছে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে ফেরি সংকট দীর্ঘদিনের। একটি ফেরি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেটি দ্রুত মেরামত বা বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে নদীতে স্রোত বাড়লেই পুরো নৌরুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।
তাদের দাবি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটটি রাজবাড়ী ও পাবনাসহ আশপাশের জেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ পথে যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার হয়। তাই একটি ফেরি বিকল থাকলে তার পরিবর্তে দ্রুত অন্য ফেরির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুরোনো ফেরিগুলো মেরামত করে আধুনিক ও নিরাপদ ফেরি চালুরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ফেরির চাহিদার কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিষয়টি তারা দেখছে।’
এদিকে তীব্র স্রোতের মধ্যে ট্রলার ও স্পিডবোটে যাত্রী পারাপারের বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এসব নৌযানে নদী পার হচ্ছেন। কিন্তু অনেক যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নদী পার হতে দেখা যাচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় স্রোত ও ঢেউ বেশি থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।























