Dhaka ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
একাদশে ভর্তির সময়সূচি নিয়ে যা বলছে শিক্ষা বোর্ড জাবির পদোন্নতি রেজুলেশনে ‘অসংগতি’, প্রভাব-চাপের অভিযোগ তদন্তের দাবি ছাত্রশক্তির সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক ডনের জামিন মেলেনি নওগাঁয় ১৫০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ নারী মাদক কারবারি আটক নওগাঁর ১১ থানার মধ্যে আবারও শ্রেষ্ঠ ওসি মান্দার খোরশেদ আলম পোরশায় ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি আটক মধুখালীতে চারতলা ভবন থেকে পড়ে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির মৃত্যু কালীগঞ্জে হিরো উমেন স্কলারশিপ বিতরণ রপ্তানি বহুমুখীকরণে হালাল ইকোসিস্টেম গড়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না : রিজভী

জাবির পদোন্নতি রেজুলেশনে ‘অসংগতি’, প্রভাব-চাপের অভিযোগ তদন্তের দাবি ছাত্রশক্তির

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ না পাওয়া এক কর্মচারীর নাম বোর্ডের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব তুর্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদোন্নতি বোর্ডে সুপারিশ না পাওয়া একজন কর্মচারীর নাম কীভাবে বোর্ডের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত হলো, তার সুস্পষ্ট জবাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দিতে হবে। বোর্ডে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি, তা কীভাবে রেজুলেশনে স্থান পেল এবং পরবর্তীতে একজন বোর্ড সদস্য অসংগতি চিহ্নিত করার পর কেন রেজুলেশন সংশোধনের প্রয়োজন হলো এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

জাতীয় ছাত্রশক্তি বলেছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথিতে বোর্ডের প্রকৃত সিদ্ধান্তের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্তির ঘটনাকে নিছক ‘খসড়া তৈরির ভুল’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কীভাবে, কার মাধ্যমে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই অসংগতি তৈরি হলো, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে এর পেছনে কোনো প্রভাব, চাপ, ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পদোন্নতি বোর্ডের প্রকৃত সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশনের মধ্যে অসংগতির কারণ নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট নাম বা তথ্য কীভাবে রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত হলো তা তদন্ত, রেজুলেশন প্রস্তুত, যাচাই ও সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাব, চাপ বা নির্দেশে রেজুলেশনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা। এ ছাড়া অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নথি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হতে পারে না।’ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিউজসূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি বোর্ডের সভায় যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়জন কর্মচারীকে আপগ্রেডিংয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। একই সভায় পাঁচজনের পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি। তবে সুপারিশ না পাওয়া কম্পট্রোলার শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী সুফিয়া সুলতানার নাম পরবর্তীতে বোর্ডের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ওই রেজুলেশনে পদোন্নতি বোর্ডের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন। পরে রেজুলেশনটি অন্যান্য সদস্যের স্বাক্ষরের জন্য গেলে কমিটির সদস্য ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান এতে অসংগতি দেখতে পান। তিনি রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করে তা ফেরত পাঠান এবং জানান, সুফিয়া সুলতানার নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বোর্ডে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরে সুফিয়া সুলতানার নাম বাদ দিয়ে সংশোধিত রেজুলেশন আনা হলে অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাতে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-২) আলেয়া ফেরদৌসী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এগুলো পরিবর্তন হয় না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বোর্ডের সব সদস্যের সিগনেচার থাকে।’ তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে রেজুলেশন লেখেন না, কেবল কার্যবিবরণী প্রস্তুত করেন।

অন্যদিকে কম্পট্রোলার শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী সুফিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি শুধু ভাইভা দিয়েছিলাম।’

অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনোভাবে উপ-উপাচার্য এটাতে সই করেছেন। পরে আমি বলেছি, এটা সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই ফেরত পাঠিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আলেয়াকে বলেছি, “এটা তো সুপারিশ করা হয়নি, তার পরেও এটা কেন এলো?” তিনি আমাকে কিছু বলতে পারেননি। এরপর তা ঠিক করে আনতে বলি।’

রেজুলেশনের বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটাই চূড়ান্ত। সিদ্ধান্তের আগে এদিক-সেদিক হতেই পারে।’

আলেয়া ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘তার ব্যক্তিগতভাবে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আমরা খসড়া কী করলাম, সেগুলো দেখার বা সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’

বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্তের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে জাবি শাখা ছাত্রশক্তি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবির পদোন্নতি রেজুলেশনে ‘অসংগতি’, প্রভাব-চাপের অভিযোগ তদন্তের দাবি ছাত্রশক্তির

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ না পাওয়া এক কর্মচারীর নাম বোর্ডের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব তুর্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদোন্নতি বোর্ডে সুপারিশ না পাওয়া একজন কর্মচারীর নাম কীভাবে বোর্ডের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত হলো, তার সুস্পষ্ট জবাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দিতে হবে। বোর্ডে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি, তা কীভাবে রেজুলেশনে স্থান পেল এবং পরবর্তীতে একজন বোর্ড সদস্য অসংগতি চিহ্নিত করার পর কেন রেজুলেশন সংশোধনের প্রয়োজন হলো এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

জাতীয় ছাত্রশক্তি বলেছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথিতে বোর্ডের প্রকৃত সিদ্ধান্তের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্তির ঘটনাকে নিছক ‘খসড়া তৈরির ভুল’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কীভাবে, কার মাধ্যমে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই অসংগতি তৈরি হলো, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে এর পেছনে কোনো প্রভাব, চাপ, ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পদোন্নতি বোর্ডের প্রকৃত সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশনের মধ্যে অসংগতির কারণ নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট নাম বা তথ্য কীভাবে রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত হলো তা তদন্ত, রেজুলেশন প্রস্তুত, যাচাই ও সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাব, চাপ বা নির্দেশে রেজুলেশনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা। এ ছাড়া অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নথি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হতে পারে না।’ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিউজসূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি বোর্ডের সভায় যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়জন কর্মচারীকে আপগ্রেডিংয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। একই সভায় পাঁচজনের পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি। তবে সুপারিশ না পাওয়া কম্পট্রোলার শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী সুফিয়া সুলতানার নাম পরবর্তীতে বোর্ডের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ওই রেজুলেশনে পদোন্নতি বোর্ডের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন। পরে রেজুলেশনটি অন্যান্য সদস্যের স্বাক্ষরের জন্য গেলে কমিটির সদস্য ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান এতে অসংগতি দেখতে পান। তিনি রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করে তা ফেরত পাঠান এবং জানান, সুফিয়া সুলতানার নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বোর্ডে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরে সুফিয়া সুলতানার নাম বাদ দিয়ে সংশোধিত রেজুলেশন আনা হলে অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাতে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-২) আলেয়া ফেরদৌসী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এগুলো পরিবর্তন হয় না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বোর্ডের সব সদস্যের সিগনেচার থাকে।’ তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে রেজুলেশন লেখেন না, কেবল কার্যবিবরণী প্রস্তুত করেন।

অন্যদিকে কম্পট্রোলার শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী সুফিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি শুধু ভাইভা দিয়েছিলাম।’

অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনোভাবে উপ-উপাচার্য এটাতে সই করেছেন। পরে আমি বলেছি, এটা সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই ফেরত পাঠিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আলেয়াকে বলেছি, “এটা তো সুপারিশ করা হয়নি, তার পরেও এটা কেন এলো?” তিনি আমাকে কিছু বলতে পারেননি। এরপর তা ঠিক করে আনতে বলি।’

রেজুলেশনের বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটাই চূড়ান্ত। সিদ্ধান্তের আগে এদিক-সেদিক হতেই পারে।’

আলেয়া ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘তার ব্যক্তিগতভাবে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আমরা খসড়া কী করলাম, সেগুলো দেখার বা সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’

বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্তের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে জাবি শাখা ছাত্রশক্তি।