Dhaka ১০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী নওগাঁয় হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে তিন পরিবহনকে জরিমানা

মোদির আশ্বাসেও থামেনি বিক্ষোভ, উত্তাল দিল্লির রাজপথ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 77

 

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিলেও বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন। বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা যারা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং দায়ীদেরও রক্ষা করেছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি—শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এদিকে, মোদির আশ্বাসের পরও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের চেয়ে পুরো দিল্লি অচল করে দিতে সরকার বেশি আগ্রহী।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভণ্ডুল করতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে বিশৃঙ্খলা ও উসকানি সৃষ্টি করছে। এর আগে বুধবার গভীর রাতে যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার পরও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও যন্তর মন্তরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। সূত্র: দ্য হিন্দু।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মোদির আশ্বাসেও থামেনি বিক্ষোভ, উত্তাল দিল্লির রাজপথ

প্রকাশের সময় : ১২:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিলেও বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন। বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা যারা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং দায়ীদেরও রক্ষা করেছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি—শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এদিকে, মোদির আশ্বাসের পরও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের চেয়ে পুরো দিল্লি অচল করে দিতে সরকার বেশি আগ্রহী।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভণ্ডুল করতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে বিশৃঙ্খলা ও উসকানি সৃষ্টি করছে। এর আগে বুধবার গভীর রাতে যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার পরও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও যন্তর মন্তরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। সূত্র: দ্য হিন্দু।