পাংশায় খাল পুনঃখননে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

- প্রকাশের সময় : ০৬:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / 28
খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সুফলে বদলে যেতে শুরু করেছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। দীর্ঘদিন পলি ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে থাকা খালগুলো পুনরুদ্ধারের ফলে বেড়েছে সেচ সুবিধা, কমেছে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা। কৃষকদের মতে, এ উদ্যোগ তাদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ব্যয়ও কমাতে সহায়তা করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যশাই ও পাট্টা ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে খালগুলোতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে খালগুলোতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষকরা সহজেই সেচের কাজে তা ব্যবহার করতে পারছেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষিত থাকায় সেচের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে না। একই সঙ্গে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদনও বাড়বে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে ফসল ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।
খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খালের দুই তীরে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে পাড় ভাঙন রোধেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে এক্সকাভেটর মেশিন ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় অদক্ষ নারী ও পুরুষ শ্রমিকদেরও কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।
পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. চাঁদ আলী খান বলেন, দীর্ঘদিন খালগুলোর সংস্কার না হওয়ায় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পাংশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমবে। এতে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের মতে, একসময় অনাবাদী পড়ে থাকা অনেক জমি এখন চাষাবাদের আওতায় আসছে। তাদের বিশ্বাস, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।




















