Dhaka ১২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক কোনো ছাড় নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা: দুঃখপ্রকাশ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কংগ্রেসে নতুন বিল: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক শক্তি একীভূতকরণের প্রস্তাব ৭২ ঘণ্টার সমন্বিত অ্যাকশন প্লানে বর্জ্য অপসরণ ডিএনসিসির টাইব্রেকারে স্বপ্ন ভাঙল আর্সেনালের, আবারও ইউরোপসেরা পিএসজি মানিকগঞ্জে দেবরের বিরুদ্ধে ভাবি-ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগ তামাকের প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর পাঁচদিনের পূর্বাভাসে যা জানাল আবহাওয়া অফিস মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াত ও এনসিপি অপপ্রচার চালাচ্ছে: রাশেদ খান

কংগ্রেসে নতুন বিল: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক শক্তি একীভূতকরণের প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • / 5

 

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনার লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন, সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যবস্থায় দুই দেশের সহযোগিতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

‘ইউনাইটেড স্টেটস-ইসরায়েল ডিফেন্স টেকনোলজি কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি ২০২৭ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ)-এর খসড়ার ২২৪ নম্বর ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনডিএএ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক ব্যয় অনুমোদনের প্রধান আইন।

প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি প্রথমে প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির অনুমোদন পেতে হবে, এরপর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পাস হওয়ার পরই আইনে পরিণত হতে পারবে।

সামরিক সহায়তা থেকে প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, আইনটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক সম্পর্কের চরিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতদিন সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল মার্কিন সামরিক সহায়তা ও অর্থায়ন। নতুন উদ্যোগের ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে একজন বিশেষ ‘এক্সিকিউটিভ এজেন্ট’ নিয়োগ করতে হবে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার সব কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে- যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম পরিচালনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন, সামরিক তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ডেটা নেটওয়ার্কের সমন্বয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সাইবার যুদ্ধ
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও পরিচালনা করে। নতুন আইন কার্যকর হলে সহযোগিতা শুধু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

খসড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, উন্নত সেন্সর ব্যবস্থা এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যান্য প্রযুক্তিগত খাতে যৌথ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

সমালোচকদের উদ্বেগ
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাবেক কর্মকর্তা ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন ‘অ্যা নিউ পলিসি’র প্রতিষ্ঠাতা জস পল এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তার ভাষ্য, কংগ্রেস এমনভাবে দুই দেশের সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে দিতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নতুন আইন ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে ইসরায়েলি প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য করবে। এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা নীতির ওপর তেল আবিবের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উদ্যোগ
প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে ইরানের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সংঘাত শুরু হয়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

একই সময়ে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্র। ২০০৮ সাল থেকে মার্কিন আইনে ওয়াশিংটনকে ইসরায়েলের তথাকথিত ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ বা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় প্রযুক্তিগত ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা প্রদান করে। এই ১০ বছরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হবে।

১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় গ্রহীতা। মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয়ের পর এই সহায়তার মোট মূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যার বেশিরভাগই সামরিক খাতে ব্যয় হয়েছে।

সহায়তার নতুন রূপ?
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চান। তার ভাষায়, ইসরায়েল এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সরাসরি অর্থ সহায়তার পরিবর্তে প্রযুক্তি ও শিল্পভিত্তিক সহযোগিতা বেশি কার্যকর হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন উদ্যোগটি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থ সহায়তাভিত্তিক সম্পর্কের পরিবর্তে প্রযুক্তি, গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্রিক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কংগ্রেসে নতুন বিল: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক শক্তি একীভূতকরণের প্রস্তাব

প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

 

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনার লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন, সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যবস্থায় দুই দেশের সহযোগিতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

‘ইউনাইটেড স্টেটস-ইসরায়েল ডিফেন্স টেকনোলজি কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি ২০২৭ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ)-এর খসড়ার ২২৪ নম্বর ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনডিএএ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক ব্যয় অনুমোদনের প্রধান আইন।

প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি প্রথমে প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির অনুমোদন পেতে হবে, এরপর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পাস হওয়ার পরই আইনে পরিণত হতে পারবে।

সামরিক সহায়তা থেকে প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, আইনটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক সম্পর্কের চরিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতদিন সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল মার্কিন সামরিক সহায়তা ও অর্থায়ন। নতুন উদ্যোগের ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে একজন বিশেষ ‘এক্সিকিউটিভ এজেন্ট’ নিয়োগ করতে হবে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার সব কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে- যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম পরিচালনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন, সামরিক তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ডেটা নেটওয়ার্কের সমন্বয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সাইবার যুদ্ধ
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও পরিচালনা করে। নতুন আইন কার্যকর হলে সহযোগিতা শুধু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

খসড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, উন্নত সেন্সর ব্যবস্থা এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যান্য প্রযুক্তিগত খাতে যৌথ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

সমালোচকদের উদ্বেগ
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাবেক কর্মকর্তা ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন ‘অ্যা নিউ পলিসি’র প্রতিষ্ঠাতা জস পল এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তার ভাষ্য, কংগ্রেস এমনভাবে দুই দেশের সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে দিতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নতুন আইন ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে ইসরায়েলি প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য করবে। এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা নীতির ওপর তেল আবিবের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উদ্যোগ
প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে ইরানের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সংঘাত শুরু হয়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

একই সময়ে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্র। ২০০৮ সাল থেকে মার্কিন আইনে ওয়াশিংটনকে ইসরায়েলের তথাকথিত ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ বা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় প্রযুক্তিগত ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা প্রদান করে। এই ১০ বছরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হবে।

১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় গ্রহীতা। মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয়ের পর এই সহায়তার মোট মূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যার বেশিরভাগই সামরিক খাতে ব্যয় হয়েছে।

সহায়তার নতুন রূপ?
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চান। তার ভাষায়, ইসরায়েল এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সরাসরি অর্থ সহায়তার পরিবর্তে প্রযুক্তি ও শিল্পভিত্তিক সহযোগিতা বেশি কার্যকর হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন উদ্যোগটি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থ সহায়তাভিত্তিক সম্পর্কের পরিবর্তে প্রযুক্তি, গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্রিক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা