Dhaka ১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়লেন যেসব তারকা বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ, দিলেন ব্যাখ্যা ‘এলিয়েন’ ওয়েবসাইট চালু করল হোয়াইট হাউস মহেশপুর অফিসার্স ফোরামের উদ্যোগে গুণিজন ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রাস্তায় কোরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী ফুটপাতে সন্তান প্রসব; মা হলেন ‌‘পাগলী’, বাবা হয়নি কেউ কোরবানির মাংস গলায় আটকে দুই জেলায় ২ শিশুর মৃত্যু মাদক ও মৌলবাদ যেন সমাজকে গ্রাস করতে না পারে : আইনমন্ত্রী ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে সাদা দলের ক্ষোভ

পোস্তায় চামড়ার দাম নিয়ে ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • / 13

রাজধানীর পোস্তায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পিকআপ ও ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া আনা হচ্ছে। কোথাও রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরু ও ছাগলের চামড়া। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে পুরো এলাকা সরগরম থাকলেও বিক্রেতাদের মুখে ছিল হতাশার ছাপ। দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ বিক্রেতারা। বিশেষ করে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি সংগ্রহকারীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারমূল্যের কোনো মিল নেই। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া ও নগদ অর্থ সংকটের কারণেই বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। তাদের অভিযোগ, এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও ভালো দাম পাচ্ছি না। সরকার যে দাম ঠিক করেছে, বাস্তবে তার অর্ধেকও মিলছে না।

বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও মাদ্রাসা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পোস্তায় এনেছেন রাইসুল ইসলাম। কিন্তু এক আড়ত থেকে আরেক আড়তে ঘুরেও আশানুরূপ দাম পাননি তিনি। তার ভাষ্য, “সবাই একই কথা বলছে—বাজার খারাপ, টাকা নেই।”

তবে আড়তদারদের দাবি, তারাও লোকসানের ঝুঁকি নিয়ে চামড়া কিনছেন। পোস্তার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ভালো মানের বড় গরুর চামড়া তারা সর্বোচ্চ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় কিনছেন। কিন্তু লবণ, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় চাপ তৈরি হয়েছে।

এক আড়তদার বলেন, অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া ঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন না। ফলে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে যায়।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম দামে চামড়া কেনার চেষ্টা করছেন, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সব ব্যবসায়ী এক নয়।

তিনি আরও বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নেই। এ কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২০ হাজার কম চামড়া সংগ্রহ হতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পোস্তায় চামড়ার দাম নিয়ে ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

রাজধানীর পোস্তায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পিকআপ ও ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া আনা হচ্ছে। কোথাও রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরু ও ছাগলের চামড়া। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে পুরো এলাকা সরগরম থাকলেও বিক্রেতাদের মুখে ছিল হতাশার ছাপ। দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ বিক্রেতারা। বিশেষ করে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি সংগ্রহকারীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারমূল্যের কোনো মিল নেই। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া ও নগদ অর্থ সংকটের কারণেই বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। তাদের অভিযোগ, এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও ভালো দাম পাচ্ছি না। সরকার যে দাম ঠিক করেছে, বাস্তবে তার অর্ধেকও মিলছে না।

বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও মাদ্রাসা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পোস্তায় এনেছেন রাইসুল ইসলাম। কিন্তু এক আড়ত থেকে আরেক আড়তে ঘুরেও আশানুরূপ দাম পাননি তিনি। তার ভাষ্য, “সবাই একই কথা বলছে—বাজার খারাপ, টাকা নেই।”

তবে আড়তদারদের দাবি, তারাও লোকসানের ঝুঁকি নিয়ে চামড়া কিনছেন। পোস্তার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ভালো মানের বড় গরুর চামড়া তারা সর্বোচ্চ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় কিনছেন। কিন্তু লবণ, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় চাপ তৈরি হয়েছে।

এক আড়তদার বলেন, অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া ঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন না। ফলে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে যায়।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম দামে চামড়া কেনার চেষ্টা করছেন, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সব ব্যবসায়ী এক নয়।

তিনি আরও বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নেই। এ কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২০ হাজার কম চামড়া সংগ্রহ হতে পারে।