Dhaka ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মায়ের অনুরোধ রাখতে প্রাণ গেল ৬ শিশুর, দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / 121

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ঠান্ডা লাগার অভিযোগে এক মায়ের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখার পর পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিজারিয়ানের পর মা ও নবজাতকদের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। বাচ্চাগুলো প্রথমে সুস্থ ছিল। পরে এক মায়ের অনুরোধে ওয়ার্ডের এসি বন্ধ রাখা হয়। ওই কক্ষে যথাযথ ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, রাত ৩টার দিকে দুই নবজাতক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয় এবং কিছুটা উন্নতি দেখে আবার ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ভোর ৬টার দিকে নার্সরা বাকি নবজাতকদেরও অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পোস্ট অপারেটিভ রুমে ১১ জন মা ও ৬ নবজাতক অবস্থান করছিল। এক মায়ের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখা হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর পুনরায় চালু করা হলে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। পরে একে একে সব নবজাতকই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির তদন্তে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে এবং আলামত সংগ্রহ চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এক মায়ের অনুরোধ রাখতে প্রাণ গেল ৬ শিশুর, দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

প্রকাশের সময় : ০৯:০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ঠান্ডা লাগার অভিযোগে এক মায়ের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখার পর পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিজারিয়ানের পর মা ও নবজাতকদের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। বাচ্চাগুলো প্রথমে সুস্থ ছিল। পরে এক মায়ের অনুরোধে ওয়ার্ডের এসি বন্ধ রাখা হয়। ওই কক্ষে যথাযথ ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, রাত ৩টার দিকে দুই নবজাতক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয় এবং কিছুটা উন্নতি দেখে আবার ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ভোর ৬টার দিকে নার্সরা বাকি নবজাতকদেরও অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পোস্ট অপারেটিভ রুমে ১১ জন মা ও ৬ নবজাতক অবস্থান করছিল। এক মায়ের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখা হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর পুনরায় চালু করা হলে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। পরে একে একে সব নবজাতকই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির তদন্তে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে এবং আলামত সংগ্রহ চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।