ধামইরহাটে শতবর্ষী বৃদ্ধের জমি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, টাকা না দিয়ে হত্যার হুমকি
- প্রকাশের সময় : ১২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 29
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় প্রায় ১০০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের জমি প্রতারণার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ না করে উল্টো মিথ্যা মামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪নং উমার ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফার পিতা রিয়াজ উদ্দিনের মালিকানাধীন ১৬ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য তার ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামান স্থানীয় বাসিন্দা রকি বাবুর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রকি বাবু অগ্রিম ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং একটি হ্যান্ডনোট গ্রহণ করেন। বাকি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের পর জমি রেজিস্ট্রির কথা ছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জমি রেজিস্ট্রির জন্য ধামইরহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে রকি বাবুর কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তিনি একই জমি বন্ধক রাখার প্রস্তাব দেন। এতে সরল বিশ্বাসে গোলাম মোস্তফা তাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন এবং আরেকটি হ্যান্ডনোট নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দিন বাকি ১০ হাজার টাকা পরিশোধসহ আগের হ্যান্ডনোট ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা আর রক্ষা করা হয়নি। বরং যোগাযোগ এড়িয়ে যাওয়া এবং শালিসি বৈঠকেও উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধের শারীরিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমার বাবার কাছ থেকে প্রতারণা করে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। পাওনা টাকা চাইতে গেলে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কোদাল দিয়ে মারারও চেষ্টা করা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রকি বাবু দাবি করেন, তিনি জমির জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন এবং পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় জমি বুঝে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “কামরুজ্জামান আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকার জন্য মামলা হয়েছে, জমির বায়নার টাকা নয়। এছাড়া গোলাম মোস্তফা আমার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, কাউকে হয়রানি করা হয়নি এবং বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে। তবে তার কাছে দলিলের কপি দেখতে চাইলে তা প্রদর্শন করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।























