পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের নতুন মামলা
- প্রকাশের সময় : ১০:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 24
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও তাকে ঘিরে থাকা বিতর্কের কালো মেঘ যেন কিছুতেই সরছে না। দীর্ঘ সময় ধরে জ্যাকসন পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নিউ জার্সির কাসসিও পরিবারের চার ভাইবোন এবার প্রয়াত পপতারকার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলাটি সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে, যখন এই চার ভাইবোন নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। তাদের দাবি, মাইকেল জ্যাকসন তাদের শৈশবজুড়ে বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন করেছেন এবং তার বিশাল অনুচর বাহিনী বা এন্টুরাজ এই অপরাধে সরাসরি সহায়তা ও প্ররোচনা দিয়েছে। এডওয়ার্ড জোসেফ কাসসিও, ডমিনিক সাভিনি কাসসিও, মারি-নিকোল পোর্টে এবং আলদো কাসসিও নামের এই চার বাদী এখন প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ওপর এই বিভীষিকাময় অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল যখন তাদের বয়স ছিল মাত্র সাত বা আট বছর।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে কাসসিও পরিবারের পরিচয় হয়েছিল তাদের বাবার মাধ্যমে, যিনি একটি বিলাসবহুল হোটেলে কর্মরত ছিলেন যেখানে জ্যাকসন প্রায়ই অবস্থান করতেন। ধীরে ধীরে পপসম্রাট এই পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং তাদের বাড়িতে নিজের সন্তানদের নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, জ্যাকসন তার অর্থ, ক্ষমতা এবং বিশ্বজোড়া খ্যাতি ব্যবহার করে এই শিশুদের পরিবারের ওপর একধরনের মানসিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিশুদের জন্য খেলনা, ইলেকট্রনিক্স এবং বিলাসবহুল উপহারের বন্যা বইয়ে দিয়ে তিনি তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। বাদীপক্ষের দাবি, জ্যাকসন তাদের এমনভাবে ‘ব্রেনওয়াশ’ বা মগজ ধোলাই করেছিলেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে বুঝতেও পারেনি তাদের সঙ্গে যা ঘটছে তা চরম অপরাধ। এমনকি একে অপরের কাছ থেকেও এই নির্যাতনের কথা গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের।
এই মামলায় কেবল প্রয়াত মাইকেল জ্যাকসনকেই দায়ী করা হয়নি, বরং তার সম্পত্তির দেখভালকারী বা এস্টেটের বর্তমান পরিচালক জন ব্রাঙ্কা এবং জন ম্যাক্লেইনকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্যাকসনের ব্যক্তিগত আইনজীবী এবং তদন্তকারীরা পরিকল্পিতভাবে কাসসিও পরিবারকে ভুল বুঝিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে এইচবিও-র বিতর্কিত ডকুমেন্টারি ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ প্রকাশের পর যখন মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগের ঝড় ওঠে, তখন জ্যাকসন এস্টেটের পক্ষ থেকে এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, হ্যারমান ওয়েইসবার্গের মতো প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর এবং অন্যান্য আইনজীবীরা নিজেদের কাসসিও পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, অথচ তারা আসলে কাজ করছিলেন জ্যাকসন এস্টেটের স্বার্থরক্ষায়। এর মাধ্যমে একটি গোপন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করানো হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল এই ভাইবোনদের মুখ বন্ধ রাখা।
আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগে অত্যন্ত বিচলিতকর এবং সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য উঠে এসেছে যা মাইকেল জ্যাকসনের নেভারল্যান্ড রাঞ্চ এবং তার বিভিন্ন কনসার্ট ট্যুর চলাকালীন সময়ের। ভাইবোনদের দাবি, জ্যাকসন তাদের মদ এবং মাদকে আসক্ত করে তুলতেন যাতে তিনি সহজে তার পাশবিক লালসা চরিতার্থ করতে পারেন। তারা অভিযোগ করেছেন, জ্যাকসন তাদের শিশুদের নগ্ন ছবি বা পর্নোগ্রাফি দেখাতেন যাতে তারা যৌন বিষয়গুলোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি নির্যাতনের ঘটনাগুলো আড়াল করতে তিনি বিভিন্ন সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করতেন। যেমন— মদ্যপানকে তিনি ‘যিশুর রস’ (Jesus Juice) বা ‘ডিজনি জুস’ বলতেন এবং যৌন মিলনকে ‘মিটিং’ বা ‘ডিজনিল্যান্ডে যাওয়া’র মতো নিরীহ শব্দে সংজ্ঞায়িত করতেন। বাদীপক্ষের একজন মারি-নিকোল পোর্টে অভিযোগ করেছেন, জ্যাকসন তার ওপর নির্যাতন চালানোর সময় অন্য দুই ভাইকে তা দেখতে বাধ্য করতেন এবং বলতেন যে এটি একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়।
কাসসিও পরিবারের এই চার ভাইবোনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, এলিজাবেথ টেলর এবং এলটন জনের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের বাড়িতে থাকাকালীনও তারা জ্যাকসনের লালসার শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, জ্যাকসনের বিশাল এন্টুরাজ বা কর্মচারীরা জানতেন যে বন্ধ দরজার আড়ালে কী ঘটছে। তারা বিছানার চাদর পরিষ্কার করার সময় বা বাচ্চাদের মাদকাসক্ত অবস্থায় দেখার পরেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং তারা জ্যাকসনের নির্দেশে সুরক্ষার এমন বলয় তৈরি করেছিলেন যাতে বাইরের কেউ ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতে না পারে। এমনকি নেভারল্যান্ডে এমন সব নিরাপত্তাব্যবস্থা বা অ্যালার্ম বসানো হয়েছিল যা বাইরের কেউ ভেতরে প্রবেশের আগেই জ্যাকসনকে সতর্ক করে দিত, যাতে তিনি তড়িঘড়ি করে তার কুকীর্তি লুকিয়ে ফেলতে পারেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্যাকসন বছরের পর বছর ধরে একটি নিরাপদ অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এস্টেটের আইনজীবী মার্টিন সিঙ্গার এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘মানি গ্র্যাব’ বা অর্থ হাতানোর অপকৌশল মাত্র। তিনি দাবি করেন যে, কাসসিও পরিবার গত ২৫ বছর ধরে মাইকেল জ্যাকসনের সবচেয়ে বড় রক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিল। এমনকি ২০১১ সালে ফ্রাঙ্ক কাসসিওর লেখা বই এবং অপরাহ উইনফ্রের বিখ্যাত টক শো-তে তারা সশরীরে উপস্থিত হয়ে জ্যাকসনকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। সেই সময় এডওয়ার্ড কাসসিও বলেছিলেন, মাইকেল একটি মাছি মারার ক্ষমতাও রাখেন না এবং তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। মার্টিন সিঙ্গারের মতে, এখন হঠাৎ করে পপসম্রাটের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ মুক্তি পাওয়ার দিনে এমন অভিযোগ আনা অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর পেছনে কেবল কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার লোভ কাজ করছে।
এস্টেটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে তারা কাসসিও পরিবারকে প্রায় ২৮ লাখ ডলার প্রদান করেছিল কেবল তাদের গোপনীয়তা এবং মাইকেল জ্যাকসনের উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসি রক্ষা করার জন্য। এস্টেটের দাবি অনুযায়ী, কাসসিও পরিবারের আইনজীবীরা দফায় দফায় বিশাল অঙ্কের অর্থের দাবি করে আসছিলেন। কখনো ২১৩ মিলিয়ন ডলার আবার কখনো ৪০ মিলিয়ন ডলারের দাবি তুলে তারা হুমকি দিয়েছিলেন যে টাকা না পেলে তারা জনসমক্ষে এসব অভিযোগ আনবেন। আইনজীবীদের মতে, এটি একটি পরিষ্কার চাঁদাবাজির মামলা। তারা মনে করেন, যেহেতু মাইকেল জ্যাকসন এখন জীবিত নেই এবং তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার সুযোগ কম, তাই এই সুযোগে তার মৃতদেহকে পুঁজি করে ব্যবসা করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে এখন জ্যাকসনের এস্টেটের আর্থিক সাফল্য যখন তুঙ্গে, তখন এই ধরনের মামলার মাধ্যমে ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
মামলার নথিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাসসিও পরিবার দাবি করছে তাদের তৎকালীন আইনজীবীরা আসলে জ্যাকসন এস্টেটের স্বার্থ দেখছিলেন। তারা মনে করেন, হ্যারমান ওয়েইসবার্গ এবং ব্রায়ান ফ্রিডম্যানের মতো ব্যক্তিরা তাদের ভুল বুঝিয়ে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে মুখ বন্ধ রাখার চুক্তিতে সই করিয়েছিলেন। এখন সেই চুক্তিকে অকার্যকর করার এবং বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বাদীপক্ষ মনে করে, তারা দীর্ঘকাল ধরে মাইকেল জ্যাকসনের করা ‘মানসিক নির্যাতনের’ প্রভাবে সত্য বলতে ভয় পাচ্ছিলেন এবং এখন তারা সেই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তাদের ভাষ্যমতে, তারা কেবল অর্থের জন্য নয় বরং তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার এবং বিশ্ববাসীকে সত্য জানানোর জন্য এই আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন। তারা আরও দাবি করেন, তাদের পিতামাতাও এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন জ্যাকসনের দ্বারা মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিলেন এবং তারাও বুঝতে পারেননি তাদের সন্তানদের সঙ্গে কী ঘটছে।
এই আইনি লড়াইটি এমন একসময়ে শুরু হয়েছে যখন মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত বড় বাজেটের বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে। লায়ন্সগেটের এই ছবিটি বক্স অফিসে বিশাল সাফল্যের মুখ দেখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জ্যাকসন এস্টেটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কাসসিও পরিবার ঠিক এই সময়টিকেই বেছে নিয়েছে যাতে তারা প্রচারের আলোয় আসতে পারে এবং এস্টেটের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে বিশাল অঙ্কের অর্থ আদায় করতে পারে। তারা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০০৫ সালের দীর্ঘ পাঁচ মাসের বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত মাইকেল জ্যাকসনকে সমস্ত অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছিলেন। তবে বাদীপক্ষের পাল্টা যুক্তি হলো, সে সময় জ্যাকসনের বিশাল প্রভাব এবং ভীতি প্রদর্শনকারী আইনজীবীদের কারণে অনেক সত্য ধামাচাপা পড়েছিল, যা এখন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
মাইকেল জ্যাকসনের উত্তরাধিকার এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগগুলো দশকের পর দশক ধরে পপসংস্কৃতির অন্যতম চর্চিত বিষয়। একদিকে যেমন তার কোটি কোটি ভক্ত তাকে সংগীত ঈশ্বর হিসেবে উপাসনা করেন, অন্যদিকে এই ধরনের ভয়াবহ অভিযোগগুলো তার ভাবমূর্তিকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করে। কাসসিও পরিবারের এই নতুন মামলাটি যদি আদালতে টেকসই হয়, তবে তা মাইকেল জ্যাকসন এস্টেটের জন্য কেবল আর্থিক নয় বরং আইনি ও নৈতিক দিক থেকেও এক বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানিগুলোতে হয়তো আরও গোপন ও বিস্ফোরক অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে, যা পপসম্রাটের জীবনের অন্ধকার দিকগুলোকে নতুন করে উন্মোচিত করবে। আপাতত পুরো বিশ্ব এবং সংগীতজগৎ এই ঐতিহাসিক মামলার গতিপ্রকৃতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
জ্যাকসনের আইনজীবীরা আরও মনে করেন, কাসসিও পরিবার বারবার তাদের আইনজীবী পরিবর্তন করেছে এবং একেক সময় একেক অঙ্কের অর্থের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তারা মনে করেন এটি একটি বিশুদ্ধ ‘ফোরাম শপিং’ কৌশল যেখানে বাদীপক্ষ কেবল সেই আদালত বা আইনি পন্থার খোঁজ করছে যেখানে তারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে। তাদের মতে, কাসসিও ভাইবোনরা অতীতে বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যেসব কথা বলেছেন, তার প্রতিটি শব্দই বর্তমান অভিযোগের পরিপন্থী। এখন ১৫ বছর পর পপসম্রাটের মৃত্যুকে পুঁজি করে এই ধরনের অভিযোগ তোলাকে তারা অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু কাসসিও ভাইবোনদের সাফ কথা, তারা তাদের শৈশবের হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে চান এবং তারা চান বিশ্ব জানুক মাইকেল জ্যাকসন আসলে পর্দার আড়ালে ঠিক কেমন মানুষ ছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, মাইকেল জ্যাকসন মারা গেলেও তাকে ঘিরে থাকা এই আইনি জটিলতা এবং কলঙ্ক যেন অম্লান হয়ে আছে। একদিকে কোটি কোটি ডলারের সম্পদ এবং খ্যাতি, অন্যদিকে একের পর এক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পপসম্রাটের স্মৃতি আজও অস্থির। কাসসিও পরিবারের এই মামলাটি কেবল একটি পরিবারের বিচার পাওয়ার দাবি নয়, বরং এটি হলিউডের গ্ল্যামার জগতের সেই অন্ধকার গলির গল্প যেখানে ক্ষমতা আর অর্থের জোরে শৈশবকে পিষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে আদালতের বিচার প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে কারা সত্য বলছে আর কারা কেবল মিথ্যার বেসাতি করছে। তবে আপাতত এই মামলাটি বিনোদন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।
সূত্র: ভ্যারাইটি























