Dhaka ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাজধানীতে আরও চার থানা চালুর পরিকল্পনা হাসিনা দিয়েছিল যাবজ্জীবন সাজা, আর আল্লাহ বানালেন মন্ত্রী: ধর্মমন্ত্রী রাজধানীর কদমতলীতে কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট পতিসরে পালিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজকের ই-পেপার (৮ মে ২০২৬) পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, শপথ নেবেন কাল ঘুস নেওয়ায় চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড মির্জা ফখরুলসহ ১৫ জন পাচ্ছেন ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’ সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে বিচরণ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: মির্জা ফখরুল

ঝিনাইদহের ১২ নদ-নদী দখল ও দূষণে মৃতপ্রায়

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 51

দখল, দূষণ ও খননের অভাবে ঝিনাইদহের অধিকাংশ নদ-নদী এখন মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। জেলার নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষসহ প্রায় ১২টি নদীই মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।

জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরস্রোতা নবগঙ্গা নদীতে একসময় বড় বড় নৌযান চলাচল করলেও বর্তমানে সেখানে গবাদিপশু চলাচল করছে। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে ময়লা-আবর্জনায়, বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে চর। এসব চর স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে চাষাবাদসহ নানা কাজে ব্যবহার করছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে চিত্রা, কুমার, গড়াই, ইছামতি ও কপোতাক্ষ নদীতেও। কোথাও উৎসমুখে বাঁধ নির্মাণ, কোথাও তীর দখল—এসব কারণে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা কমে গেছে। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় এসব নদীতে মাছ ধরে অনেকের জীবিকা চললেও বর্তমানে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নেই বললেই চলে। দ্রুত খনন না করলে নদীগুলো সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদী পুনরুদ্ধারে প্রথমেই উৎসমুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ জরুরি। পাশাপাশি উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু খনন নয়, দখলমুক্ত করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নদী দখলমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের ছয় উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১২টি নদ-নদীর মোট আয়তন ১ হাজার ৬৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এসব নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঝিনাইদহের ১২ নদ-নদী দখল ও দূষণে মৃতপ্রায়

প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

দখল, দূষণ ও খননের অভাবে ঝিনাইদহের অধিকাংশ নদ-নদী এখন মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। জেলার নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষসহ প্রায় ১২টি নদীই মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।

জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরস্রোতা নবগঙ্গা নদীতে একসময় বড় বড় নৌযান চলাচল করলেও বর্তমানে সেখানে গবাদিপশু চলাচল করছে। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে ময়লা-আবর্জনায়, বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে চর। এসব চর স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে চাষাবাদসহ নানা কাজে ব্যবহার করছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে চিত্রা, কুমার, গড়াই, ইছামতি ও কপোতাক্ষ নদীতেও। কোথাও উৎসমুখে বাঁধ নির্মাণ, কোথাও তীর দখল—এসব কারণে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা কমে গেছে। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় এসব নদীতে মাছ ধরে অনেকের জীবিকা চললেও বর্তমানে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নেই বললেই চলে। দ্রুত খনন না করলে নদীগুলো সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদী পুনরুদ্ধারে প্রথমেই উৎসমুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ জরুরি। পাশাপাশি উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু খনন নয়, দখলমুক্ত করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নদী দখলমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের ছয় উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১২টি নদ-নদীর মোট আয়তন ১ হাজার ৬৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এসব নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।