Dhaka ০৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জুলাই সনদ নিয়ে অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না : চিফ হুইপ সৌদিতে ১০০০ বছরের পুরনো বিরল পবিত্র কুরআন শরীফের পাণ্ডুলিপি উন্মোচন নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে মালামালসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার ট্রাম্পের নতুন আদেশ : ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি স্কুল-কলেজ ধ্বংস, গাজার সৈকতে পরীক্ষার ভিডিও ভাইরাল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছল জ্বালানি তেলবাহী ২ জাহাজ বাসের চাকা ফেটে সেতুতে ধাক্কা, চালকসহ নিহত ৩ স্থল অভিযান হলে ‘শত্রুসেনাদের’ কেউ যেন জীবিত না ফেরে : ইরানি সেনাপ্রধান দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এপ্রিলে, থাকতে পারে ঘূর্ণিঝড়ও হাজারীবাগে বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ছোট বড় সবার কাছে সমান জনপ্রিয় ছিলেন বিতার্কিক রাইয়ান

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 43

‘রাইয়ান ভাই অমায়িক একজন মানুষ ছিলেন। কোনো সহযোগিতা চাইলে হাসিমুখে করে দিতেন। আমি যখন সেভেন এইটে পড়াকালীন বিতর্কের সূত্রে রাইয়ান ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। রাইয়ান ভাই তখন কলেজে। আমি এসএসসি পাশ করলাম, রাইয়ান ভাই তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাকে বলত জাহাঙ্গীরনগরে কবে আসবি। আমি এবছর ঠিকই জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হলাম। কিন্তু রাইয়ান ভাইকে পেলাম না। এই কষ্ট নিয়েই আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য ইমতিয়াজ আরেফিন সৌরভ। রাইয়ান পরিবারে যেমন সবার চোখের মণি ছিলেন, তেমনি বাইরে ছোট বড় সবার কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। একজন নিষ্ঠাবান সমাজকর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছিলেন ধীরে ধীরে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মেধাবী ছাত্র কৃতি বিতার্কিক আহনাফ রাইয়ান গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। মারা গেছেন তার মা রেহেনা আক্তার ও আট বছরের ভাগ্নে তাজবীদ। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! মাত্র তিন মাস আগে গত ২১ ডিসেম্বর রাইয়ানের বাবা ইসমাইল হোসেন মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর একসাথে তিনজনের মৃত্যুশোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন দুই বোন ডা. ইশরাত জাহান লোপা ও ডা. নুসরাত জাহান খান সাবা। সাজানো গোছানো সংসার যেন হঠাৎ ঝড়ে তছনছ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রাইয়ানরা তিন ভাই বোন ছিলেন একে অপরের অন্তপ্রাণ। বড় বোন ডা. ইশরাত জাহান লোপার স্বামী কেবিএম মুসাব্বির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে তিনি মিশরে রয়েছেন। ছোট বোন ডা. নুসরাত জাহান খান সাবার বিয়ে হয়েছে মাত্র চার মাস আগে। তার স্বামী ডা. রাইয়ান আহমেদ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। বাবার মৃত্যুর পর তার মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন সবাই।

শনিবার রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুরের বাসায় গিয়ে কথা হয় ডা. নুসরাত জাহান খান সাবার সঙ্গে। তার হাতে এখনও ক্যানোলা লাগানো। চোখেমুখে দুর্ঘটনার আতঙ্কের ছাপ। তার স্বামী ডা. রাইয়ান দুঃসময়ে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে এসেছেন। বড় বোন ডা. ইশরাত জাহান মা ভাই আর ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

ডা. ইশরাত জানান, ঈদে তারা ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন। সবাই আনন্দ করেছেন। ২৭ মার্চ শুক্রবার সবাই মিলে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২৪ মার্চ তার বোন ঢাকায় চলে যান। তার ভাগ্নে তাজবীদ মামাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে চায়না। রাইয়ানও ভাগ্নেকে খুব আদর করত। ভাগ্নের আবদারে তাকে রেখে একা চলে যান বড় বোন। ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তার মা আর তিনি বাসের পেছনের দিকে পাশাপাশি আসনে ছিলেন। ঠিক তার সামনে রাইয়ান আর তাজবীদ ছিল। গরম লাগায় তার মা সামনের দিকে ফ্যানের নীচে গিয়ে বসেন। ওই সময় বাসটি ফেরিঘাটে হঠাৎ উল্টে যেতে শুরু করলে রাইয়ানকে বলেন, তাজবীদকে জানালা দিয়ে বের কর। রাইয়ান ও তাজবীদ দুজনই সাঁতার জানত। তিনি সাঁতার জানেন না বলে ধরেই নিয়েছিলেন আর বাঁচবেন না। তিনি কীভাবে যেন পানিতে ভেসে উঠলেন আর একজন গামছা দিয়ে তাকে টেনে তোলে। তার ধারণা বাসটি উল্টে পড়ে পানির চাপে বাসের পেছনের কাঁচ ভেঙে বাইরে বেরিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে তার বড় বোন এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছেন।

এদিকে রাইয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধুমহলে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে শুধু রাইয়ান আর রাইয়ান। কেউ লিখছেন স্মৃতি কথা, কেউ বা আগামীর পরিকল্পনা কী ছিল সেসব কথা।

বিতার্কিক ফেরদৌস খান ফেয়ার লেখেন, ‘লাস্ট টাইম যখন রাইয়ান ভাইয়ের সাথে ইন্টার‌্যাক্ট হইলো (এই ঈদের দুইদিন আগে) সে আমারে বললো সে আর এই ডিবেট এর কাজ সামলাইতে পারবে না, সে নাই। এখন থেকে সব নাকি আমাকে দেখতে হবে। এই কথা শুনে আমি বললাম ভাই আমিও নাই। আরো কিছুক্ষন আড্ডার পর খুব তাড়া নিয়ে ভাই চলে গেলো বলে গেলো ফ্যামিলি এর কাজ। এরপর একবারে ঈদের পরদিন রাইয়ান ভাইরে আমি রিক্সায় দেখে সব সময় যেভাবে চিল্লাই ওভাবেই ডাক দিলাম। ভাই আমার দিকে তাকায় একটা হাসি দিল। এই শেষবার আমি ভাইরে দেখলাম। আমার সেই রাইয়ান ভাই আর নাই…..! আমি তো কত কাছের মানুষকে আজকে দেখলাম আমার আসে পাশে।’

রাইয়ানের এক সময়ের সহপাঠি তাসনুভা জেবিন বলেন, রাইয়ান ছিল খুবই বন্ধু বৎসল। সব সময় হাসিখুশী থাকত। ওর মত ভালো ছেলে এ সময়ে বিরল। তার মধ্যে কোনো ভনিতা ছিলনা, হিংসা ছিলনা। যা বলত, তাই করত। তার কথাকাজে খুব মিল ছিল। এমন একটি ছেলে অকালে চলে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই দুঃখের ও কষ্টের। এ কষ্ট মেনে নেওয়া যায়না।

রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, রাইয়ান যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় তখন থেকেই সে বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়। স্কুলে থাকতে সে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে। সে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় দুই জায়গাতে বিতর্ক চর্চা অব্যাহত রাখে। সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং অর্গানাইওেজশনের সাধারণ সম্পাদক ছিল। বিটিভি ডিবেটে অংশ নিয়েছে কৃতিত্বের সাথে। সে অর্থনীতিবিদ হতে চেয়েছিল। সে যেরকম মেধাবী ছিল তাতে সে অবশ্যই তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারত। তার মৃত্যুতে আমরা একটি অমূল্য সম্পদ হারিয়েছি। সে একজন ক্রীড়ামোদীও ছিল। নিয়মিত ফুটবল খেলত। রাইয়ান নেই, এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে।

রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি আহসান হাবীব জানান, বিএফএফ-সমকাল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের টিমে রাইয়ান তিনবার অংশ নেয়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেলেও যখনই এ প্রতিযোগিতা হতো ছুটে আসত। আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করত। ২০২৩ সালে সুহৃদ সমাবেশের বিতর্ক কর্মশালায়ও রাইয়ান প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের রাইয়ান, তার মা এবং  ভাগনের মৃত্যু আমাদের কাছে বজ্রপাতের মত। রাইয়ান ছিল আমাদের অতি প্রিয়জন।  তার হাসি মুখটি বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত  মেধাবী বুদ্ধিদীপ্ত  বিতার্কিক রাইহান পরিবার এবং দেশের সম্পদ ছিল। এই সম্পদ আমরা হারিয়েছি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ছোট বড় সবার কাছে সমান জনপ্রিয় ছিলেন বিতার্কিক রাইয়ান

প্রকাশের সময় : ০৬:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

‘রাইয়ান ভাই অমায়িক একজন মানুষ ছিলেন। কোনো সহযোগিতা চাইলে হাসিমুখে করে দিতেন। আমি যখন সেভেন এইটে পড়াকালীন বিতর্কের সূত্রে রাইয়ান ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। রাইয়ান ভাই তখন কলেজে। আমি এসএসসি পাশ করলাম, রাইয়ান ভাই তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাকে বলত জাহাঙ্গীরনগরে কবে আসবি। আমি এবছর ঠিকই জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হলাম। কিন্তু রাইয়ান ভাইকে পেলাম না। এই কষ্ট নিয়েই আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য ইমতিয়াজ আরেফিন সৌরভ। রাইয়ান পরিবারে যেমন সবার চোখের মণি ছিলেন, তেমনি বাইরে ছোট বড় সবার কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। একজন নিষ্ঠাবান সমাজকর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছিলেন ধীরে ধীরে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মেধাবী ছাত্র কৃতি বিতার্কিক আহনাফ রাইয়ান গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। মারা গেছেন তার মা রেহেনা আক্তার ও আট বছরের ভাগ্নে তাজবীদ। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! মাত্র তিন মাস আগে গত ২১ ডিসেম্বর রাইয়ানের বাবা ইসমাইল হোসেন মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর একসাথে তিনজনের মৃত্যুশোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন দুই বোন ডা. ইশরাত জাহান লোপা ও ডা. নুসরাত জাহান খান সাবা। সাজানো গোছানো সংসার যেন হঠাৎ ঝড়ে তছনছ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রাইয়ানরা তিন ভাই বোন ছিলেন একে অপরের অন্তপ্রাণ। বড় বোন ডা. ইশরাত জাহান লোপার স্বামী কেবিএম মুসাব্বির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে তিনি মিশরে রয়েছেন। ছোট বোন ডা. নুসরাত জাহান খান সাবার বিয়ে হয়েছে মাত্র চার মাস আগে। তার স্বামী ডা. রাইয়ান আহমেদ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। বাবার মৃত্যুর পর তার মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন সবাই।

শনিবার রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুরের বাসায় গিয়ে কথা হয় ডা. নুসরাত জাহান খান সাবার সঙ্গে। তার হাতে এখনও ক্যানোলা লাগানো। চোখেমুখে দুর্ঘটনার আতঙ্কের ছাপ। তার স্বামী ডা. রাইয়ান দুঃসময়ে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে এসেছেন। বড় বোন ডা. ইশরাত জাহান মা ভাই আর ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

ডা. ইশরাত জানান, ঈদে তারা ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন। সবাই আনন্দ করেছেন। ২৭ মার্চ শুক্রবার সবাই মিলে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২৪ মার্চ তার বোন ঢাকায় চলে যান। তার ভাগ্নে তাজবীদ মামাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে চায়না। রাইয়ানও ভাগ্নেকে খুব আদর করত। ভাগ্নের আবদারে তাকে রেখে একা চলে যান বড় বোন। ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তার মা আর তিনি বাসের পেছনের দিকে পাশাপাশি আসনে ছিলেন। ঠিক তার সামনে রাইয়ান আর তাজবীদ ছিল। গরম লাগায় তার মা সামনের দিকে ফ্যানের নীচে গিয়ে বসেন। ওই সময় বাসটি ফেরিঘাটে হঠাৎ উল্টে যেতে শুরু করলে রাইয়ানকে বলেন, তাজবীদকে জানালা দিয়ে বের কর। রাইয়ান ও তাজবীদ দুজনই সাঁতার জানত। তিনি সাঁতার জানেন না বলে ধরেই নিয়েছিলেন আর বাঁচবেন না। তিনি কীভাবে যেন পানিতে ভেসে উঠলেন আর একজন গামছা দিয়ে তাকে টেনে তোলে। তার ধারণা বাসটি উল্টে পড়ে পানির চাপে বাসের পেছনের কাঁচ ভেঙে বাইরে বেরিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে তার বড় বোন এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছেন।

এদিকে রাইয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধুমহলে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে শুধু রাইয়ান আর রাইয়ান। কেউ লিখছেন স্মৃতি কথা, কেউ বা আগামীর পরিকল্পনা কী ছিল সেসব কথা।

বিতার্কিক ফেরদৌস খান ফেয়ার লেখেন, ‘লাস্ট টাইম যখন রাইয়ান ভাইয়ের সাথে ইন্টার‌্যাক্ট হইলো (এই ঈদের দুইদিন আগে) সে আমারে বললো সে আর এই ডিবেট এর কাজ সামলাইতে পারবে না, সে নাই। এখন থেকে সব নাকি আমাকে দেখতে হবে। এই কথা শুনে আমি বললাম ভাই আমিও নাই। আরো কিছুক্ষন আড্ডার পর খুব তাড়া নিয়ে ভাই চলে গেলো বলে গেলো ফ্যামিলি এর কাজ। এরপর একবারে ঈদের পরদিন রাইয়ান ভাইরে আমি রিক্সায় দেখে সব সময় যেভাবে চিল্লাই ওভাবেই ডাক দিলাম। ভাই আমার দিকে তাকায় একটা হাসি দিল। এই শেষবার আমি ভাইরে দেখলাম। আমার সেই রাইয়ান ভাই আর নাই…..! আমি তো কত কাছের মানুষকে আজকে দেখলাম আমার আসে পাশে।’

রাইয়ানের এক সময়ের সহপাঠি তাসনুভা জেবিন বলেন, রাইয়ান ছিল খুবই বন্ধু বৎসল। সব সময় হাসিখুশী থাকত। ওর মত ভালো ছেলে এ সময়ে বিরল। তার মধ্যে কোনো ভনিতা ছিলনা, হিংসা ছিলনা। যা বলত, তাই করত। তার কথাকাজে খুব মিল ছিল। এমন একটি ছেলে অকালে চলে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই দুঃখের ও কষ্টের। এ কষ্ট মেনে নেওয়া যায়না।

রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, রাইয়ান যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় তখন থেকেই সে বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়। স্কুলে থাকতে সে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে। সে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় দুই জায়গাতে বিতর্ক চর্চা অব্যাহত রাখে। সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং অর্গানাইওেজশনের সাধারণ সম্পাদক ছিল। বিটিভি ডিবেটে অংশ নিয়েছে কৃতিত্বের সাথে। সে অর্থনীতিবিদ হতে চেয়েছিল। সে যেরকম মেধাবী ছিল তাতে সে অবশ্যই তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারত। তার মৃত্যুতে আমরা একটি অমূল্য সম্পদ হারিয়েছি। সে একজন ক্রীড়ামোদীও ছিল। নিয়মিত ফুটবল খেলত। রাইয়ান নেই, এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে।

রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি আহসান হাবীব জানান, বিএফএফ-সমকাল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের টিমে রাইয়ান তিনবার অংশ নেয়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেলেও যখনই এ প্রতিযোগিতা হতো ছুটে আসত। আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করত। ২০২৩ সালে সুহৃদ সমাবেশের বিতর্ক কর্মশালায়ও রাইয়ান প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের রাইয়ান, তার মা এবং  ভাগনের মৃত্যু আমাদের কাছে বজ্রপাতের মত। রাইয়ান ছিল আমাদের অতি প্রিয়জন।  তার হাসি মুখটি বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত  মেধাবী বুদ্ধিদীপ্ত  বিতার্কিক রাইহান পরিবার এবং দেশের সম্পদ ছিল। এই সম্পদ আমরা হারিয়েছি।