স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় ‘গেম-চেঞ্জার’ হতে পারে নতুন এক পরীক্ষা
- প্রকাশের সময় : ১২:০৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 148
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ২৩ লাখ নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন, ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপিসহ বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও সব রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো সমানভাবে কার্যকর হয় না।
সম্প্রতি ‘ক্লিনিক্যাল ক্যানসার রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, নতুন এক ধরনের ‘লিকুইড বায়োপসি’ অ্যাডভান্সড বা ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসা কতটা কার্যকর হবে, তা আগেভাগেই বুঝতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষণায় ‘প্লাজমাম্যাচ’ ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১৭৬ জন অ্যাডভান্সড স্তন ক্যানসার রোগীর রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে রক্তে থাকা ‘সার্কুলেটিং টিউমার ডিএনএ’ (সিটিডিএনএ) শনাক্তের মাধ্যমে চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়। চিকিৎসা শুরুর আগে এবং চার সপ্তাহ পর রক্তে সিটিডিএনএ’র মাত্রা পরিমাপ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, চিকিৎসা শুরুর চার সপ্তাহ পর যাদের রক্তে সিটিডিএনএ শনাক্ত হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ক্যানসার দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং চিকিৎসায় সাড়া ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিপরীতে, যাদের রক্তে সিটিডিএনএ শনাক্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার সাফল্য কম এবং রোগ দ্রুত অগ্রসর হয়েছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো ও গবেষণার প্রধান লেখক ডা. আইসল্ট ব্রাউন বলেন, রক্তের নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিকিৎসার কার্যকারিতা আগেভাগেই অনুমান করা সম্ভব হলে রোগীর জন্য সবচেয়ে উপযোগী থেরাপি বেছে নেওয়া সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা মেটাস্ট্যাটিক বা ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যকর হচ্ছে কি না, তা দ্রুত বোঝা গেলে চিকিৎসা পদ্ধতিতে সময়মতো পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে




















