Dhaka ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতন: শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 198

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্যরা। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন প্রথমে অব্যাহতি চেয়ে করা আসামিদের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে আদালত। পরে সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। গ্রেপ্তার আসামিদের একে একে অভিযোগ পড়েও শোনানো হয়। এ পর্ব শেষ হলে আদালত সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন, যা অভিযোগ গঠনের ন্যূনতম ২১ দিনের মধ্যে হবে।
সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা থাকে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টার পর ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
মামলায় এখনও সাতজন পলাতক। তারা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, এবং র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ছিল ২১ ডিসেম্বর। তবে তোফায়েল, কামরুল ও মশিউর জুয়েলের পক্ষে শুনানির আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। আদালত শেষে আজকের দিন নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউটর চিফ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আসামিদের আইনজীবীরা বিচারকাজ বিলম্ব করার জন্য আবেদন করছেন।
আগের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর টিএফআই সেলের বীভৎসতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য দুইভাবে নির্ধারিত হতো—গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো বা সাত-আট বছর গুমের পরে অজানা স্থানে ফেলে দেওয়া। ২২ অক্টোবরও সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের বিচারব্যবস্থায় এটি এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতন: শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু

প্রকাশের সময় : ০২:৫২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্যরা। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন প্রথমে অব্যাহতি চেয়ে করা আসামিদের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে আদালত। পরে সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। গ্রেপ্তার আসামিদের একে একে অভিযোগ পড়েও শোনানো হয়। এ পর্ব শেষ হলে আদালত সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন, যা অভিযোগ গঠনের ন্যূনতম ২১ দিনের মধ্যে হবে।
সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা থাকে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টার পর ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
মামলায় এখনও সাতজন পলাতক। তারা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, এবং র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ছিল ২১ ডিসেম্বর। তবে তোফায়েল, কামরুল ও মশিউর জুয়েলের পক্ষে শুনানির আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। আদালত শেষে আজকের দিন নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউটর চিফ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আসামিদের আইনজীবীরা বিচারকাজ বিলম্ব করার জন্য আবেদন করছেন।
আগের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর টিএফআই সেলের বীভৎসতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য দুইভাবে নির্ধারিত হতো—গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো বা সাত-আট বছর গুমের পরে অজানা স্থানে ফেলে দেওয়া। ২২ অক্টোবরও সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের বিচারব্যবস্থায় এটি এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।