Dhaka ০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা-কাদের-আমুসহ ১৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 176

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের আদেশে যাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা ও পরিচালক।

দুদকের পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান আদালতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডকে পাঁচ বছরের জন্য মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ পায় এবং এই চুক্তির আওতায় মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এর ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা। সংস্থাটির দাবি, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দেশত্যাগ করলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন বন্ধ করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এ শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিদ্যমান দরপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল করে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ না দিয়ে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে পাঁচ বছরের চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
দুদক জানায়, একই সেতুর টোল আদায়ের কাজ পূর্ববর্তী সময়ে তুলনামূলক কম ব্যয়ে সম্পন্ন হলেও আলোচিত চুক্তিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তি ও অবকাঠামো ব্যয়ের নামে বাড়তি অর্থ দাবি করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির কিছু সদস্যের যোগসাজশেই এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শেখ হাসিনা-কাদের-আমুসহ ১৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের সময় : ০৫:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের আদেশে যাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা ও পরিচালক।

দুদকের পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান আদালতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডকে পাঁচ বছরের জন্য মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ পায় এবং এই চুক্তির আওতায় মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এর ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা। সংস্থাটির দাবি, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দেশত্যাগ করলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন বন্ধ করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এ শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিদ্যমান দরপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল করে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ না দিয়ে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে পাঁচ বছরের চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
দুদক জানায়, একই সেতুর টোল আদায়ের কাজ পূর্ববর্তী সময়ে তুলনামূলক কম ব্যয়ে সম্পন্ন হলেও আলোচিত চুক্তিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তি ও অবকাঠামো ব্যয়ের নামে বাড়তি অর্থ দাবি করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির কিছু সদস্যের যোগসাজশেই এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।