Dhaka ১০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শোরুমে বিক্রি করে দিয়েছিলাম : আদালতকে হান্নান

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 185

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি একটি শোরুমে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন মোটরসাইকেলটির নথিভুক্ত মালিক মো. আব্দুল হান্নান।

রোববার সন্ধ্যায় রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে ঢাকা মহানগর হাকিম দিদারুল আলমের আদালতে তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল হান্নান আদালতে জানান, তিনি হোন্ডা মোটরসাইকেলটি মিরপুর মাজার রোড থেকে কিনেছিলেন। পরে হাতে সমস্যা হওয়ায় পরিবার থেকে বাইক চালাতে নিষেধ করা হয়। এ কারণে মোটরসাইকেলটি বাসায় পড়ে ছিল। নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে পরে একটি শোরুমে সেটি বিক্রি করে দেন এবং মালিকানা পরিবর্তন করে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শোরুম কর্তৃপক্ষ দুই মাস আগে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য তাকে ফোন দিয়েছিল। তবে সে সময় তিনি অসুস্থ থাকায় সেখানে যেতে পারেননি।

শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে হান্নান বলেন, গ্রেফতারের পর তিনি র‍্যাবকে জানিয়েছিলেন যে শোরুমে নিয়ে গেলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। থানায়ও একই কথা বলেছেন। তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় বিচারক তাকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।

পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক সামিম হাসান রিমান্ড আবেদনে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং অর্থ ও তথ্যের যোগসূত্র নির্ণয়ের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, মোটরসাইকেলটির নম্বর যাচাই করে দেখা গেছে এর মালিক হান্নান। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছেন।

মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত হোন্ডা মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে রিমান্ড প্রয়োজন।

এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পল্টন থানার পক্ষ থেকে প্রথমে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে আরেক আবেদনে চারটি কারণ উল্লেখ করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তথ্যমতে, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, শরিফ ওসমান হাদি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চলার সময় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে র‍্যাব-২ জানতে পারে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ল-৫৪-৬৩৭৫। পরে বিআরটিএ থেকে মালিকানা যাচাই করে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানকে শনাক্ত করা হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শোরুমে বিক্রি করে দিয়েছিলাম : আদালতকে হান্নান

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি একটি শোরুমে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন মোটরসাইকেলটির নথিভুক্ত মালিক মো. আব্দুল হান্নান।

রোববার সন্ধ্যায় রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে ঢাকা মহানগর হাকিম দিদারুল আলমের আদালতে তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল হান্নান আদালতে জানান, তিনি হোন্ডা মোটরসাইকেলটি মিরপুর মাজার রোড থেকে কিনেছিলেন। পরে হাতে সমস্যা হওয়ায় পরিবার থেকে বাইক চালাতে নিষেধ করা হয়। এ কারণে মোটরসাইকেলটি বাসায় পড়ে ছিল। নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে পরে একটি শোরুমে সেটি বিক্রি করে দেন এবং মালিকানা পরিবর্তন করে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শোরুম কর্তৃপক্ষ দুই মাস আগে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য তাকে ফোন দিয়েছিল। তবে সে সময় তিনি অসুস্থ থাকায় সেখানে যেতে পারেননি।

শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে হান্নান বলেন, গ্রেফতারের পর তিনি র‍্যাবকে জানিয়েছিলেন যে শোরুমে নিয়ে গেলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। থানায়ও একই কথা বলেছেন। তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় বিচারক তাকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।

পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক সামিম হাসান রিমান্ড আবেদনে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং অর্থ ও তথ্যের যোগসূত্র নির্ণয়ের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, মোটরসাইকেলটির নম্বর যাচাই করে দেখা গেছে এর মালিক হান্নান। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছেন।

মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত হোন্ডা মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে রিমান্ড প্রয়োজন।

এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পল্টন থানার পক্ষ থেকে প্রথমে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে আরেক আবেদনে চারটি কারণ উল্লেখ করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তথ্যমতে, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, শরিফ ওসমান হাদি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চলার সময় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে র‍্যাব-২ জানতে পারে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ল-৫৪-৬৩৭৫। পরে বিআরটিএ থেকে মালিকানা যাচাই করে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানকে শনাক্ত করা হয়।