Dhaka ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন হয় যমজ সন্তান?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 77

অনেক দম্পতির কাছেই যমজ সন্তান জন্ম যেন এক ধরনের বিস্ময়। কেউ কেউ আবার সচেতনভাবেই চান ভবিষ্যতে তাদের যমজ সন্তান হোক। কিন্তু আসলে কী কারণে যমজ গর্ভধারণ হয়? এটি কি পুরোপুরি ভাগ্যের ব্যাপার, নাকি চিকিৎসা ও জিনগত প্রভাবও রয়েছে এর পেছনে? এ বিষয়ে জানিয়েছেন ভারতের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গরিমা চৌহান।

পারিবারিক বা বংশগত প্রভাব

ডা. গরিমা জানান, যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি পরিবারের মা, দাদি, খালা বা বোনের যমজ সন্তান জন্মের ইতিহাস থাকে, তাহলে একই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মেও যমজ সন্তানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কারণ এটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ বংশগতির প্রভাব এ ক্ষেত্রে বেশ শক্তিশালী।

ডিম্বস্ফোটন বৃদ্ধি করে এমন ওষুধ

অনেক নারী প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণে সমস্যায় পড়েন। এ ধরনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) উদ্দীপিত করার ওষুধ দেওয়া হয়। এই ওষুধের ফলে কখনও কখনও একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হয়, যা আলাদা আলাদা শুক্রাণুর দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে যমজ গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

আইভিএফ চিকিৎসার প্রভাব

বর্তমান সময়ে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) বা টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই চিকিৎসায় গর্ভধারণের সাফল্যের হার বাড়াতে অনেক সময় জরায়ুতে একাধিক ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়। এজন্য আইভিএফের মাধ্যমে যমজ বা ত্রিমজ সন্তান জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাও স্বাভাবিক গর্ভধারণের তুলনায় বেশি থাকে।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গরিমা বলেন, সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না। কখনো কখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ও যমজ সন্তান হতে পারে। আবার জেনেটিক বা চিকিৎসাগত সকল শর্ত পূরণ করেও সবার যমজ সন্তান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

তার পরামর্শ, যমজ গর্ভাবস্থা সাধারণ গর্ভাবস্থার চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এই ধরনের গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কেন হয় যমজ সন্তান?

প্রকাশের সময় : ০৬:১৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

অনেক দম্পতির কাছেই যমজ সন্তান জন্ম যেন এক ধরনের বিস্ময়। কেউ কেউ আবার সচেতনভাবেই চান ভবিষ্যতে তাদের যমজ সন্তান হোক। কিন্তু আসলে কী কারণে যমজ গর্ভধারণ হয়? এটি কি পুরোপুরি ভাগ্যের ব্যাপার, নাকি চিকিৎসা ও জিনগত প্রভাবও রয়েছে এর পেছনে? এ বিষয়ে জানিয়েছেন ভারতের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গরিমা চৌহান।

পারিবারিক বা বংশগত প্রভাব

ডা. গরিমা জানান, যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি পরিবারের মা, দাদি, খালা বা বোনের যমজ সন্তান জন্মের ইতিহাস থাকে, তাহলে একই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মেও যমজ সন্তানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কারণ এটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ বংশগতির প্রভাব এ ক্ষেত্রে বেশ শক্তিশালী।

ডিম্বস্ফোটন বৃদ্ধি করে এমন ওষুধ

অনেক নারী প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণে সমস্যায় পড়েন। এ ধরনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) উদ্দীপিত করার ওষুধ দেওয়া হয়। এই ওষুধের ফলে কখনও কখনও একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হয়, যা আলাদা আলাদা শুক্রাণুর দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে যমজ গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

আইভিএফ চিকিৎসার প্রভাব

বর্তমান সময়ে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) বা টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই চিকিৎসায় গর্ভধারণের সাফল্যের হার বাড়াতে অনেক সময় জরায়ুতে একাধিক ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়। এজন্য আইভিএফের মাধ্যমে যমজ বা ত্রিমজ সন্তান জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাও স্বাভাবিক গর্ভধারণের তুলনায় বেশি থাকে।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গরিমা বলেন, সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না। কখনো কখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ও যমজ সন্তান হতে পারে। আবার জেনেটিক বা চিকিৎসাগত সকল শর্ত পূরণ করেও সবার যমজ সন্তান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

তার পরামর্শ, যমজ গর্ভাবস্থা সাধারণ গর্ভাবস্থার চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এই ধরনের গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি।