আমরা জাতি হিসেবে ব্যর্থ হতে চাই না: প্রধান উপদেষ্টা
- প্রকাশের সময় : ০২:২৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 91
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা জাতি হিসেবে ব্যর্থ হতে চাই না। আমাদের তরুণরা জেগেছে, মানুষ জেগেছে। আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি, সেটাই নিশ্চিত করতে চাই। না হলে এত রক্তপাত-আত্মত্যাগের কি ফল পেলাম?”
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, নাগরিকরা যে ঘরে জন্মগ্রহণ করুক না কেন, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পাবে। “তাদের শক্তি আছে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার। তারা বন্দি বা পালিয়ে থাকার জন্য জন্মায়নি। তারা গড়ে উঠবে, দেশ গড়বে, পৃথিবী গড়বে।”
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা সফল করতে হলে ধর্ম-বর্ণ-ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। “সব অশুভ, অন্যায়, অন্ধকারকে পরাজিত করে ঐক্য ও সম্প্রীতির জয় হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে কল্যাণের পথে।”
দুর্গাপূজার প্রতীকী ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “লক্ষ্মীর ধন, সরস্বতীর জ্ঞান, কার্তিকের বীরত্ব, গণেশের সাফল্য ও দুর্গার শক্তি—সব মিলিয়ে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার বার্তা দেয়। আমরা যদি জ্ঞান, শক্তি ও সম্পদ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই, কোনো শক্তিই আমাদের বঞ্চিত করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, জাতি একটি পরিবার। পার্থক্য থাকলেও পরিবার অটুট থাকে। একইভাবে বাংলাদেশকেও ঐক্যবদ্ধ পরিবার হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। “রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবার সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা। সংবিধানে লিপিবদ্ধ নাগরিক অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করার অধিকার কোনো সরকারের নেই।”
ড. ইউনূস আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের পরিচয় হলো নাগরিক। সংবিধান প্রদত্ত সমস্ত নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ অধিকার নিশ্চিত হলেই সারা দেশের মানুষ একসাথে দাঁড়াবে।”
তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও বলেন, “ধর্ম পালনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেষ্টনীর প্রয়োজন হওয়া দুঃখজনক ও হাস্যকর। আমরা আমাদের ধর্ম পালন করতে চাই মুক্তভাবে, বিশ্বাসের পরিবেশে। এত রক্তপাত, এত আত্মত্যাগ এ ধরনের দেশের জন্য নয়।”






















