Dhaka ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে সময়সীমা বাড়াল সৌদি আরব মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে গলায় বাদাম আটকে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর, কমবে জাল টাকা ও খুচরার ঝামেলা এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স রানীনগরে কমিউনিটি পুলিশিং ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হেরে গেলেন ট্রাম্প, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলো মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস জাবিতে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‘আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে’, ঘানার সেই তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী

মানুষ কেন পরচর্চা করতে ভালোবাসে?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 125

আমরা প্রায় সবাই, সচেতনভাবে বা অজান্তেই, কোনো না কোনো সময় পরচর্চায় জড়িয়ে পড়ি। কেউ বন্ধুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলাপ করছে, কেউ আবার অফিসে সহকর্মীর গোপন গল্প শোনাচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, পরচর্চা শুধু বিনোদনের উপায় নয়; এর পেছনে রয়েছে নানা মানসিক ও সামাজিক কারণ। এর পেছনের কারণগুলো হল:

১. অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য বা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে মানুষ ঘনিষ্ঠতা অনুভব করে। এতে পারস্পরিক বন্ধন তৈরি হয় এবং এক ধরনের দলের সদস্য হওয়ার অনুভূতি জন্ম নেয়।

২. দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে পরচর্চা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তারকা বা পরিচিত কারও জীবন নিয়ে গল্প শোনা মানুষের কাছে আনন্দের উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

৩. অন্যের ব্যর্থতা বা দুর্ভাগ্যের গল্প শুনে মানুষ অনেক সময় নিজের জীবনের প্রতি নতুনভাবে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। এতে ক্ষণিকের জন্য আত্মমর্যাদা বেড়ে যায়।

৪. গসিপ অনেক সময় তথ্য আদান-প্রদানের ভূমিকা রাখে। কারও চরিত্র বা আচরণ নিয়ে গল্প শুনে মানুষ বুঝতে পারে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়। এটি অনেক সময় সতর্কবার্তার মতোও কাজ করে।

গবেষকদের মতে, প্রাচীন যুগে সমাজে টিকে থাকতে হলে মানুষকে অন্যদের বিশ্বাসযোগ্যতা, চরিত্র বা সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হতো। পরচর্চা তখন ছিল বেঁচে থাকার কৌশল। সেই প্রবণতাই আজও মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে।

তবে, সব পরচর্চা নেতিবাচক নয়। কখনো এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে, সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে। তবে যদি তা কারও মানহানি করে, মিথ্যা ছড়ায় বা অপবাদ দেয়— তখন সেটি নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, গসিপের সময় মস্তিষ্ক থেকে অক্সিটোসিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ভালোবাসা ও সহানুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই রাসায়নিক নিঃসরণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও তৃপ্তির অনুভূতি জাগায়।

বারবার গসিপ করলে তা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এমনকি হতাশার কারণ হতে পারে। কারও সম্পর্কে নেতিবাচক আলোচনা টার্গেট ব্যক্তির আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসকেও নষ্ট করতে পারে।

পরচর্চাকে গঠনমূলক করার উপায়

১. অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা

২. সহানুভূতিশীল হওয়া

৩. সম্মান বজায় রেখে মতামত দেওয়া

৪. ক্ষতির বদলে বোঝাপড়ার জন্য আলাপ করা

সূত্র: মিডিয়াম

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মানুষ কেন পরচর্চা করতে ভালোবাসে?

প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আমরা প্রায় সবাই, সচেতনভাবে বা অজান্তেই, কোনো না কোনো সময় পরচর্চায় জড়িয়ে পড়ি। কেউ বন্ধুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলাপ করছে, কেউ আবার অফিসে সহকর্মীর গোপন গল্প শোনাচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, পরচর্চা শুধু বিনোদনের উপায় নয়; এর পেছনে রয়েছে নানা মানসিক ও সামাজিক কারণ। এর পেছনের কারণগুলো হল:

১. অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য বা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে মানুষ ঘনিষ্ঠতা অনুভব করে। এতে পারস্পরিক বন্ধন তৈরি হয় এবং এক ধরনের দলের সদস্য হওয়ার অনুভূতি জন্ম নেয়।

২. দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে পরচর্চা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তারকা বা পরিচিত কারও জীবন নিয়ে গল্প শোনা মানুষের কাছে আনন্দের উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

৩. অন্যের ব্যর্থতা বা দুর্ভাগ্যের গল্প শুনে মানুষ অনেক সময় নিজের জীবনের প্রতি নতুনভাবে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। এতে ক্ষণিকের জন্য আত্মমর্যাদা বেড়ে যায়।

৪. গসিপ অনেক সময় তথ্য আদান-প্রদানের ভূমিকা রাখে। কারও চরিত্র বা আচরণ নিয়ে গল্প শুনে মানুষ বুঝতে পারে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়। এটি অনেক সময় সতর্কবার্তার মতোও কাজ করে।

গবেষকদের মতে, প্রাচীন যুগে সমাজে টিকে থাকতে হলে মানুষকে অন্যদের বিশ্বাসযোগ্যতা, চরিত্র বা সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হতো। পরচর্চা তখন ছিল বেঁচে থাকার কৌশল। সেই প্রবণতাই আজও মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে।

তবে, সব পরচর্চা নেতিবাচক নয়। কখনো এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে, সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে। তবে যদি তা কারও মানহানি করে, মিথ্যা ছড়ায় বা অপবাদ দেয়— তখন সেটি নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, গসিপের সময় মস্তিষ্ক থেকে অক্সিটোসিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ভালোবাসা ও সহানুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই রাসায়নিক নিঃসরণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও তৃপ্তির অনুভূতি জাগায়।

বারবার গসিপ করলে তা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এমনকি হতাশার কারণ হতে পারে। কারও সম্পর্কে নেতিবাচক আলোচনা টার্গেট ব্যক্তির আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসকেও নষ্ট করতে পারে।

পরচর্চাকে গঠনমূলক করার উপায়

১. অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা

২. সহানুভূতিশীল হওয়া

৩. সম্মান বজায় রেখে মতামত দেওয়া

৪. ক্ষতির বদলে বোঝাপড়ার জন্য আলাপ করা

সূত্র: মিডিয়াম