Dhaka ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫৫ মসজিদে চেয়ার ও সোফা বসিয়ে সংসদ সদস্যের সভা জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ গুপ্তচর প্রধানকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে সিনেমা নওগাঁয় ৪০ কেজির বেশি কষ্টিপাথরের দুই মূর্তি উদ্ধার কালুখালীতে ৭৪টি চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস, একজনের কারাদণ্ড এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে জাককানইবির শিক্ষার্থীদের ত্রিশালের পাঁচটি স্কুলে নাটকের মাধ্যমে পাঠদান  কালুখালীর মাঝবাড়ী আলিম মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম : রিজভী

পেঁয়াজ সংরক্ষণের মডেল ঘরে সুফল পাচ্ছে কৃষক

একে আজাদ, পাংশা
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • / 249

 রাজবাড়ীর পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে তৈরি করা মডেল ঘরে সুফল পাচ্ছে কৃষকেরা। কৃষি অধিদপ্তর থেকে দেওয়া এসব ঘরে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণের পাশাপাশি চলতি বছরে বেশি দামে বিক্রির করছেন চাষিরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বাড়ির উঠান বা ফাঁকা জায়গায় মাত্র এক শতাংশ জমিতে টিন-বাঁশ, লোহা ও কংক্রিটের সমন্বয়ে তৈরি করা এ ঘরে ছয়টি তাপ নিয়ন্ত্রণ ফ্যান ও তিন স্তরের মাচা রয়েছে। চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা প্রতিটি ঘরে সংরক্ষণ করা যায় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ পেঁয়াজ। প্রতিটি ঘরে আলাদা আলাদা স্তরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবেন অন্তত পাঁচ কৃষক। এ ঘরে ৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ ভালো থাকে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আমি প্রতিবছর ৮ বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজ লাগাই। চারচালা টিনের ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতাম। বেশিরভাগ পেঁয়াজই নষ্ট হয়ে যেত। গত বছর সরকার থেকে ঘর পেয়েছি। তিনিসহ আমার ভাই এই ঘরে প্রায় ৩শ মণ পেয়াজ রাখেন। জুলাই  মাস থেকে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছি। এখনো কিছু পেঁয়াজ ঘরে আছে। এবছর আমার একটা পেঁয়াজও নষ্ট হয় নাই। ভালো দামও পাইছি।

পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম মিলল বলেন, এই বছরই প্রথম সরকার থেকে দেওয়া মডেল ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করছি। এখনো বিক্রি শুরু করি নাই। তবে পেঁয়াজের কালার আগের থেকে ভালো হইছে। একটা পেঁয়াজও পচে নাই। আমাদের এই ঘর ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় আমরা ফ্যান চালাই নাই এখনো। মৌসুমে পেয়াজের দাম মণ প্রতি ১২০০ টাকা ছিল। এখন বিক্রি করলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করতে পারবো। এই ঘরে আমাদের উপকারি হইছে।

বালিয়াকান্দির চর-দক্ষিণবাড়ি এলাকায় কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, গত বছর মডেল ঘরে প্রায় ৩শ মণ পেঁয়াজ রেখেছিলেন। দামও ভালো পেয়েছিলেন। এক ঘরে এবছরও প্রায় ৩শ মণ পেঁয়াজ রেখেছেনছ। একটা পেয়াজেও পচন ধরে নাই।

মাঠ কর্মকর্তা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর মো. রাজিব খান বলেন, মডেল ঘরে পেঁয়াজ রেখে কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন, যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রত্যেক কৃষককে তো আর ঘর তৈরি করে দেওয়া যাবে না। ঘরগুলো তৈরির আরেকটি উদ্দেশ্য হল, কৃষকেরা যেন এই ঘর দেখে নিজেরাই তৈরি করতে করেন। এতে যেমন পেঁয়াজ নষ্ট হবে না পাশাপাশি তারা সুবিধামত সময়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

প্রতি বছর উৎপাদন করা পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এসব ঘর নির্মাণের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনা সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পেঁয়াজ সংরক্ষণের মডেল ঘরে সুফল পাচ্ছে কৃষক

প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

 রাজবাড়ীর পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে তৈরি করা মডেল ঘরে সুফল পাচ্ছে কৃষকেরা। কৃষি অধিদপ্তর থেকে দেওয়া এসব ঘরে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণের পাশাপাশি চলতি বছরে বেশি দামে বিক্রির করছেন চাষিরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বাড়ির উঠান বা ফাঁকা জায়গায় মাত্র এক শতাংশ জমিতে টিন-বাঁশ, লোহা ও কংক্রিটের সমন্বয়ে তৈরি করা এ ঘরে ছয়টি তাপ নিয়ন্ত্রণ ফ্যান ও তিন স্তরের মাচা রয়েছে। চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা প্রতিটি ঘরে সংরক্ষণ করা যায় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ পেঁয়াজ। প্রতিটি ঘরে আলাদা আলাদা স্তরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবেন অন্তত পাঁচ কৃষক। এ ঘরে ৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ ভালো থাকে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আমি প্রতিবছর ৮ বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজ লাগাই। চারচালা টিনের ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতাম। বেশিরভাগ পেঁয়াজই নষ্ট হয়ে যেত। গত বছর সরকার থেকে ঘর পেয়েছি। তিনিসহ আমার ভাই এই ঘরে প্রায় ৩শ মণ পেয়াজ রাখেন। জুলাই  মাস থেকে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছি। এখনো কিছু পেঁয়াজ ঘরে আছে। এবছর আমার একটা পেঁয়াজও নষ্ট হয় নাই। ভালো দামও পাইছি।

পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম মিলল বলেন, এই বছরই প্রথম সরকার থেকে দেওয়া মডেল ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করছি। এখনো বিক্রি শুরু করি নাই। তবে পেঁয়াজের কালার আগের থেকে ভালো হইছে। একটা পেঁয়াজও পচে নাই। আমাদের এই ঘর ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় আমরা ফ্যান চালাই নাই এখনো। মৌসুমে পেয়াজের দাম মণ প্রতি ১২০০ টাকা ছিল। এখন বিক্রি করলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করতে পারবো। এই ঘরে আমাদের উপকারি হইছে।

বালিয়াকান্দির চর-দক্ষিণবাড়ি এলাকায় কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, গত বছর মডেল ঘরে প্রায় ৩শ মণ পেঁয়াজ রেখেছিলেন। দামও ভালো পেয়েছিলেন। এক ঘরে এবছরও প্রায় ৩শ মণ পেঁয়াজ রেখেছেনছ। একটা পেয়াজেও পচন ধরে নাই।

মাঠ কর্মকর্তা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর মো. রাজিব খান বলেন, মডেল ঘরে পেঁয়াজ রেখে কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন, যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রত্যেক কৃষককে তো আর ঘর তৈরি করে দেওয়া যাবে না। ঘরগুলো তৈরির আরেকটি উদ্দেশ্য হল, কৃষকেরা যেন এই ঘর দেখে নিজেরাই তৈরি করতে করেন। এতে যেমন পেঁয়াজ নষ্ট হবে না পাশাপাশি তারা সুবিধামত সময়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

প্রতি বছর উৎপাদন করা পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এসব ঘর নির্মাণের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনা সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।