Dhaka ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের রেস্ট হাউজে নারীসহ ঝিনাইদহের ওসি, জড়ালেন ছাত্রদল নেতাও

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 100

যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রেস্ট হাউজে নারীসহ এক পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থান ও পরে সেখানে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে তোলপাড়। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

ঘটনা ঘটে গত ৩০ জুন সন্ধ্যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে যশোর পাউবোর পুরাতন রেস্ট হাউজের ‘কপোতাক্ষ’ কক্ষে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসান সনি পাঁচ-ছয়জন সহযোগী নিয়ে সেখানে হাজির হন। তারা দরজা ধাক্কাধাক্কি করে ওসিকে টেনে-হিঁচড়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগ তুলে ছাত্রদল নেতা সনি ওসির কাছে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে দুই লাখ টাকায় বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তি হয়। এ সময় রেস্ট হাউজের আনসার সদস্য ও বাবুর্চিকে মারধর এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

রেস্ট হাউজের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান বলেন, ওসি সাইফুল ইসলাম ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে রেস্ট হাউজে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে একদল লোক এসে জোরপূর্বক রুমে প্রবেশ করে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং তাকে (কেয়ারটেকার) মারধর করে।

রেস্ট হাউজের ইনচার্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরুণ হোসেন জানান, ঝিনাইদহ পাউবোর সুপারিশে রেস্ট হাউজে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সাইফুল ইসলাম নারীকে স্ত্রী পরিচয়েই উপস্থাপন করেন।

এদিকে, বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন বন্ধুর সঙ্গে যশোরে এসেছিলেন। ছাত্রদলের কয়েকজন পূর্বপরিচিত নেতা সেখানে এসে দেখা করেন, কিন্তু কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা গোলাম হাসান সনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ‘নারীসহ সন্দেহজনক ব্যক্তি’ থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে কোনো নারী দেখেননি এবং ওসির সঙ্গে স্বাভাবিক আলাপের পর চলে আসেন বলে দাবি করেন। যদিও সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওসিসহ এক নারীকে ঘিরে হেনস্তার চিত্র স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, রেস্ট হাউজে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ফাঁস হওয়া ফুটেজে ওঠে আসা এই ঘটনায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বিষয়টি তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যশোরের রেস্ট হাউজে নারীসহ ঝিনাইদহের ওসি, জড়ালেন ছাত্রদল নেতাও

প্রকাশের সময় : ১২:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রেস্ট হাউজে নারীসহ এক পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থান ও পরে সেখানে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে তোলপাড়। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

ঘটনা ঘটে গত ৩০ জুন সন্ধ্যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে যশোর পাউবোর পুরাতন রেস্ট হাউজের ‘কপোতাক্ষ’ কক্ষে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসান সনি পাঁচ-ছয়জন সহযোগী নিয়ে সেখানে হাজির হন। তারা দরজা ধাক্কাধাক্কি করে ওসিকে টেনে-হিঁচড়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগ তুলে ছাত্রদল নেতা সনি ওসির কাছে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে দুই লাখ টাকায় বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তি হয়। এ সময় রেস্ট হাউজের আনসার সদস্য ও বাবুর্চিকে মারধর এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

রেস্ট হাউজের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান বলেন, ওসি সাইফুল ইসলাম ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে রেস্ট হাউজে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে একদল লোক এসে জোরপূর্বক রুমে প্রবেশ করে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং তাকে (কেয়ারটেকার) মারধর করে।

রেস্ট হাউজের ইনচার্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরুণ হোসেন জানান, ঝিনাইদহ পাউবোর সুপারিশে রেস্ট হাউজে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সাইফুল ইসলাম নারীকে স্ত্রী পরিচয়েই উপস্থাপন করেন।

এদিকে, বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন বন্ধুর সঙ্গে যশোরে এসেছিলেন। ছাত্রদলের কয়েকজন পূর্বপরিচিত নেতা সেখানে এসে দেখা করেন, কিন্তু কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা গোলাম হাসান সনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ‘নারীসহ সন্দেহজনক ব্যক্তি’ থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে কোনো নারী দেখেননি এবং ওসির সঙ্গে স্বাভাবিক আলাপের পর চলে আসেন বলে দাবি করেন। যদিও সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওসিসহ এক নারীকে ঘিরে হেনস্তার চিত্র স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, রেস্ট হাউজে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ফাঁস হওয়া ফুটেজে ওঠে আসা এই ঘটনায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বিষয়টি তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।