Dhaka ০২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় ঈদের প্রশান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • / 101

ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছিল রাজবাড়ীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

পদ্মা নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে রাজবাড়ী শহর। পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র বলতে শুধুই পদ্মা নদী। এছাড়া আছে রাজবাড়ী শহরের ৩নং বেড়াডাঙ্গায় একটি শিশু পার্ক। এই পার্কে রয়েছে বিভিন্ন রাইড। যেগুলো নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে শেয়ার করা যায়। রয়েছে দোলনা, ¯িøপিং, ইট সিমেন্ট দিয়ে তৈরি সিংহ, বাঘ, কুমির, উট, জিরাফ, উটপাখি ইত্যাদি। যা শিশুদের খুবই পছন্দের। পার্কে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন। জানালেন, তার সাত বছরের ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন ঘুরতে। ছেলেটি খুবই মজা পাচ্ছে। এটা দেখে তারও ভালো লাগছে।

ঈদকে ঘিরে পদ্মা নদীর তিনটি পয়েন্টে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। রাজবাড়ী শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর গোদার বাজার পয়েন্ট। এখানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ইট, পাথর, টাইলস দিয়ে ‘পদ্মাপুলক’ নামে একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। যা নদীর সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। ঈদের আগের দিন ৬ জুন তারিখে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। ঈদের দিন বিকাল থেকে দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়। নদীতে ছিল প্রচুর নৌকা। নৌকায় পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়ার মজাই যেন আলাদা। সপরিবারে নৌকায় ঘুরেছেন অনেকেই। মাঝিদেরও আয় ভাল হয়েছে। সেখানে বসেছিল মেলা। যেখানে নাগরদোলা, শিশুদের খেলনা, নানান মুখরোচক খাবার পাওয়া গিয়েছিল। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত অব্দি মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল পদ্মাপুলক প্রাঙ্গন। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও মানুষের এমন ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

রাজবাড়ী শহরের ড্রাই আইচ ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি তার বোন ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে ঘুরেছেন। নৌকায় চড়েছেন। এতে ঈদের বাড়তি আনন্দ যোগ হয়েছে। ঈদের নামাজ পড়া শেষে বাড়িতে নানান কাজ শেষে বিকেলে এই বিনোদনটুকুর খুবই প্রয়োজন ছিল।

পদ্মা পাড়ে ঘুরতে আসা আলফাজ হোসেন জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে রাজবাড়ীতে এসেছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। বিনোদনের জন্য পরিবার নিয়ে পদ্মার পাড়ে ঘুরতে এসেছেন। এখানে বসার জন্য এখানে বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেলফি বা ছবি তোলার জন্য ‘আই লাভ রাজবাড়ী’ লেখা সম্বলিত একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। সবাই এখানে এসে ছবি তুলছে। দেখে বেশ ভালো লাগছে।

ভিড় লক্ষ্য করা গেছে পদ্মা নদীর উড়াকান্দা এলাকায়। যেটি এখন ইউকে বীচ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সেখানে দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্ত বরাট ইউনিয়নের অন্তারমোড় এলাকার পদ্মা নদীতেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে রীতিমত যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অটোচালক সাহেব আলী জানান, এখানে সাধারণত যানজট তৈরি হয়না। ঈদে মানুষ ঘুরতে এসেছে। অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে। কেউ প্রাইভেটকারে এসেছে। একারণেই যানজট। তবে ভিড় দেখে মোটেই বিরক্ত লাগছে না তার।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, তিনি রাজবাড়ী জেলায় যোগদানের পর পদ্মা নদীর গোদারবাজার পয়েন্ট পরিদর্র্শন করে সেখানে কিছু করার চিন্তা করেন। রাজবাড়ী পৌরসভার টিআর প্রকল্প থেকে পদ্মাপুলক স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সেখানে আরও কিছু করার চিন্তাভাবনা আছে। ওয়াশবøকের কাজ শুরু হয়েছে। সোলার বাতি লাগানো হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে আরও কিছু বেঞ্চ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হবে। যা নদীপাড়ের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পদ্মায় ঈদের প্রশান্তি

প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছিল রাজবাড়ীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

পদ্মা নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে রাজবাড়ী শহর। পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র বলতে শুধুই পদ্মা নদী। এছাড়া আছে রাজবাড়ী শহরের ৩নং বেড়াডাঙ্গায় একটি শিশু পার্ক। এই পার্কে রয়েছে বিভিন্ন রাইড। যেগুলো নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে শেয়ার করা যায়। রয়েছে দোলনা, ¯িøপিং, ইট সিমেন্ট দিয়ে তৈরি সিংহ, বাঘ, কুমির, উট, জিরাফ, উটপাখি ইত্যাদি। যা শিশুদের খুবই পছন্দের। পার্কে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন। জানালেন, তার সাত বছরের ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন ঘুরতে। ছেলেটি খুবই মজা পাচ্ছে। এটা দেখে তারও ভালো লাগছে।

ঈদকে ঘিরে পদ্মা নদীর তিনটি পয়েন্টে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। রাজবাড়ী শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর গোদার বাজার পয়েন্ট। এখানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ইট, পাথর, টাইলস দিয়ে ‘পদ্মাপুলক’ নামে একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। যা নদীর সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। ঈদের আগের দিন ৬ জুন তারিখে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। ঈদের দিন বিকাল থেকে দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়। নদীতে ছিল প্রচুর নৌকা। নৌকায় পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়ার মজাই যেন আলাদা। সপরিবারে নৌকায় ঘুরেছেন অনেকেই। মাঝিদেরও আয় ভাল হয়েছে। সেখানে বসেছিল মেলা। যেখানে নাগরদোলা, শিশুদের খেলনা, নানান মুখরোচক খাবার পাওয়া গিয়েছিল। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত অব্দি মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল পদ্মাপুলক প্রাঙ্গন। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও মানুষের এমন ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

রাজবাড়ী শহরের ড্রাই আইচ ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি তার বোন ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে ঘুরেছেন। নৌকায় চড়েছেন। এতে ঈদের বাড়তি আনন্দ যোগ হয়েছে। ঈদের নামাজ পড়া শেষে বাড়িতে নানান কাজ শেষে বিকেলে এই বিনোদনটুকুর খুবই প্রয়োজন ছিল।

পদ্মা পাড়ে ঘুরতে আসা আলফাজ হোসেন জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে রাজবাড়ীতে এসেছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। বিনোদনের জন্য পরিবার নিয়ে পদ্মার পাড়ে ঘুরতে এসেছেন। এখানে বসার জন্য এখানে বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেলফি বা ছবি তোলার জন্য ‘আই লাভ রাজবাড়ী’ লেখা সম্বলিত একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। সবাই এখানে এসে ছবি তুলছে। দেখে বেশ ভালো লাগছে।

ভিড় লক্ষ্য করা গেছে পদ্মা নদীর উড়াকান্দা এলাকায়। যেটি এখন ইউকে বীচ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সেখানে দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্ত বরাট ইউনিয়নের অন্তারমোড় এলাকার পদ্মা নদীতেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে রীতিমত যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অটোচালক সাহেব আলী জানান, এখানে সাধারণত যানজট তৈরি হয়না। ঈদে মানুষ ঘুরতে এসেছে। অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে। কেউ প্রাইভেটকারে এসেছে। একারণেই যানজট। তবে ভিড় দেখে মোটেই বিরক্ত লাগছে না তার।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, তিনি রাজবাড়ী জেলায় যোগদানের পর পদ্মা নদীর গোদারবাজার পয়েন্ট পরিদর্র্শন করে সেখানে কিছু করার চিন্তা করেন। রাজবাড়ী পৌরসভার টিআর প্রকল্প থেকে পদ্মাপুলক স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সেখানে আরও কিছু করার চিন্তাভাবনা আছে। ওয়াশবøকের কাজ শুরু হয়েছে। সোলার বাতি লাগানো হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে আরও কিছু বেঞ্চ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হবে। যা নদীপাড়ের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।