রাবির তথ্য অফিসার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ : অবিলম্বে বাতিলের দাবি ছাত্রসংগঠনগুলোর
- প্রকাশের সময় : ১০:২২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
- / 141
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। তারা দাবি করেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পছন্দের ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে জনসংযোগ দপ্তরের অনুসন্ধান কাম তথ্য অফিসার পদে এডহক ভিত্তিতে রাশেদুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে অযোগ্য ব্যক্তির প্রতি অনৈতিক সুবিধা প্রদান উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় রাবির বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদ, বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়নসহ ক্যাম্পাসের অন্যান্য সক্রিয় সংগঠনের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি, স্বাধীনতার এত বছর পরেও এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জায়গা থেকে আমরা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রত্যাশা করি। কিন্তু, বর্তমান প্রশাসন স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রভাবশালী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, রাশেদুল ইসলাম রাবির সমন্বয়কদের পৃষ্ঠপোষক এবং স্টুডেন্ট রাইটস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ সদস্যের সমন্বয়ক প্যানেলের মধ্যে ১২ জন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে।
তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এর আগে জনসংযোগ দপ্তরের এক প্রশাসকের নিয়োগেও একই গোষ্ঠীর হাত ছিল। এমনকি বিভিন্ন হলে হল প্রভোস্ট নিয়োগেও তারা প্রভাব বিস্তার করেছে। এটি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, মিডিয়ার বিষয়ে তার (রাশেদুল ইসলাম) দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই জায়গা থেকে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি।
তবে, শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, উপাচার্য হয়তো রাশেদুল ইসলামের প্রকৃত যোগ্যতা সম্পর্কে অবগত নন। এটি প্রশাসনের ব্যর্থতারই একটি প্রতিফলন।
ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরা এই অস্বচ্ছ নিয়োগ কোনোভাবেই মেনে নেব না। অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। অন্যথায়, আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হবো।



















