‘আমাকে নিয়া যাও, এখানে ভালো লাগছে না’
- প্রকাশের সময় : ০১:১৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 199
‘আমাকে নিয়া যাও, এখানে ভালো লাগছে না’ এটাই ছিল গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রমের দাখিনখান এলাকায় সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত আবুল কাশেমের শেষ কথা। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দেখতে গেলে চাচাতো ভগ্নিপতি সজিব আহমেদ শাহীনকে ওই কথা বলেছিলেন কাশেম (১৬)।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কাশেমের গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকার বাসায় গেলে শাহীন বলেন, শুক্রবার রাতে হামলার স্বীকার হয়ে গুরুতর আহত হয় কাশেম। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়।
তারপর থেকে তিনিই প্রতিদিন তার খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কাছে থেকেছেন। হাসপাতালে তার চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি ছিল না। যন্ত্রণায় ছটফট করলেও কিন্তু মৃত্যুর আগে জুটেনি আপনজনদের স্নেহের পরশ বা ভালোবাসা।
এটি খুব বেদানাদায়ক বলেই চোখের পানি মুছেন তিনি।
‘ভেবেছিলাম সুস্থ কাশেমকে নিয়ে ঘরে ফিরব। অথচ আনতে হচ্ছে তার লাশ। শেষ ইচ্ছাটাও পূরণ করতে পাললাম না’ বলেন শাহীন।
ফুফু নাসিমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, বহুত আক্ষেপ নিয়ে ছেলেটা বিদায় নিল। কাশেমের বাবা হাজী জামাল চিশতির দুই স্ত্রী ছিল। বড় স্ত্রী দুই ছেলে এবং ছোট স্ত্রীর ২ ছেলে এক মেয়ে। কাশেমের বয়স যখন ৪ কি ৫, তখন নিরুদ্দেশ হন তার মা রেখা আক্তার। অনাদর-অবহেলায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাকে।
তারপর থেকে দাদি আলেকজানের কাছে কাশেম ও তার অন্য দুই ভাইবোন বড় হয়েছে। ৪ বছর আগে দাদি এবং দুই বছর আগে বাবা হাসেম চিশতি মারা গেলে তিন ভাইবোন এতিম হয়ে পড়ে। ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের দিন আত্মহত্যা করে মারা যায় বড় ভাই হাসেম (২৫)। কিছুদিন পর হাসেমের স্ত্রীও চলে যায় বাপের বাড়ি। তার পর থেকেই ছোট বোন সুরভি (১৩) সৎ বড় ভাইদের সংসারে থাকেন। দাদির রেখে যাওয়া বাড়িতে থাকতেন কাশেম। নিজেই রান্না করে খেতেন। একের পর এক স্বজনদের মৃত্যুর কারণে ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারেন না সে। তারপরও হাল ছাড়েননি। স্থানীয় অনুশীলন একাডেমিতে ৮ম শ্রেণিতে পড়াখেলার পাশাপাশি কাজ করে খাবারের টাকা যোগাড় করতেন। শুরু থেকেই ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। নানা কারণে সৎ বড় দুই ভাই এবং ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। ৫ দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও তারা কেউ হাসপাতালে তাকে দেখতে যাননি। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালে গেলেও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আইসিওতে থাকায় ভাইপোর সঙ্গে কথা হয়নি। এমনকি একটু ছুয়েও দেখতে পারেননি। আঘাতের যন্ত্রণা এবং অনাদর-অবহেলার যন্ত্রণায় ভাইপোকে বিদায় নিতে হলো।’





















