রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা
- প্রকাশের সময় : ০৬:১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 33
রাজবাড়ীতে শনিবার দিনব্যাপী আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশ ও তূর্যশিকড় ঢাকার যৌথ উদ্যোগে এবং মনোজগৎ সেন্টার ফরিদপুর ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এর সহযোগিতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রেজভী জামান। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিশু, কিশোর ও পরিবার মনোরোগবিদ্যা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা কমল কান্তি সরকারের সভাপতিত্ব্ েঅন্যদের মাঝে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক হোসেন প্রমুখ।
সমাপনী ও সনদ বিতরণ পর্বে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী সুৃহৃদ সমাবেশের সহ সভাপতি ডা. রাজীব দে সরকার। বক্তৃতা করেন সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, রাজবাড়ী আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি নুরুল হক আলম, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এর সিনিয়র জোনাল ম্যানেজার একেএম মিজানুর রহমান, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সহ সভাপতি রবিউল রবি প্রমুখ।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় রাজবাড়ীর সাতটি শিক্ষগা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী আবৃত্তি চর্চার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ মানসিক বিকাশের নানা দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন শিশু, কিশোর ও পরিবার মনোরোগবিদ্যা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেজবাউল খান ফরহাদ। তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব, পড়াশোনা ও ব্যক্তিজীবনে মানসিক চাপ মোকাবিলা, আবেগ ও আচরণগত পরিবর্তন এবং প্রয়োজনের সময় মানসিক সহায়তা নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, অতিরিক্ত রাগ, বিষণ্নতা, একাকিত্ব বা পড়াশোনায় অনীহার মতো বিষয়গুলোকে অবহেলা না করে পরিবারের সদস্যদের সচেতন ও সহানুভূতিশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
অন্যদিকে আবৃত্তি কর্মশালায় কবিতা নির্বাচন, উচ্চারণের শুদ্ধতা, বাচনভঙ্গি, স্বরক্ষেপণ, ছন্দ, আবেগ ও অভিব্যক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কবিতার বক্তব্য ও অনুভূতি শ্রোতার কাছে সাবলীল ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরার কৌশলও শেখানো হয়। আবৃত্তি কর্মশালা পরিচালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী সুমনা শিল্পী। প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে হাতে-কলমে অনুশীলনে অংশ নেন।
আয়োজকেরা বলেন, আবৃত্তি শুধু সাংস্কৃতিক চর্চাই নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ, প্রকাশভঙ্গি ও সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের জীবনযাপন আরও ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। এ দুটি বিষয়কে একই কর্মশালায় যুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরা।
পরে কর্মশালায় অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।























