Dhaka ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে : প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

 

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ আশার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’

তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সঙ্কটে সৃষ্ট মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত এবং এ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে এ কথা বলছি। নিছক কথার আড়ালে সত্যকে লুকাতে চাই না। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কষ্টে আছে।

চলমান সঙ্কটের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুলকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর সাথে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটও যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি, যা জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (এমএমসিএফডি) প্রয়োজন।

এই চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ালে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক—এই তিন খাতের মধ্যে সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ থাকাও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একই ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই গ্রুপের কাছ থেকে বাংলাদেশের এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

একইসাথে আমদানি করা এলএনজি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২১ জুলাই সমস্যাটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হয়। তবে তিনি দাবি করেন, সঙ্কটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এখন সরকার পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো দ্রুত চালু করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে আগস্টে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা যেন অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে আর পোহাতে না হয়, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

আগামী গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ জোরদারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সরকারের নেয়া ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নীতি আগামী গ্রীষ্মে চলমান সময়ের মতো বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংসদ সদস্যদের সঠিক তথ্য দেয়ার পাশাপাশি এ খাতকে ঘিরে থাকা ভুল-বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার। ইউএনবি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে : প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১২:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ আশার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’

তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সঙ্কটে সৃষ্ট মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত এবং এ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে এ কথা বলছি। নিছক কথার আড়ালে সত্যকে লুকাতে চাই না। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কষ্টে আছে।

চলমান সঙ্কটের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুলকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর সাথে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটও যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি, যা জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (এমএমসিএফডি) প্রয়োজন।

এই চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ালে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক—এই তিন খাতের মধ্যে সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ থাকাও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একই ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই গ্রুপের কাছ থেকে বাংলাদেশের এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

একইসাথে আমদানি করা এলএনজি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২১ জুলাই সমস্যাটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হয়। তবে তিনি দাবি করেন, সঙ্কটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এখন সরকার পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো দ্রুত চালু করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে আগস্টে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা যেন অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে আর পোহাতে না হয়, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

আগামী গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ জোরদারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সরকারের নেয়া ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নীতি আগামী গ্রীষ্মে চলমান সময়ের মতো বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংসদ সদস্যদের সঠিক তথ্য দেয়ার পাশাপাশি এ খাতকে ঘিরে থাকা ভুল-বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার। ইউএনবি