Dhaka ০৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আইন পেশায় সফল হতে অর্থের পেছনে নয়, দক্ষতার পেছনে ছুটুন: আইনমন্ত্রী নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ড মারা গেছেন জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ : মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার কালুখালীর পাতুরিয়ায় আরএসইউএফ’র বৃত্তি ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার আশঙ্কা : উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন সবজির দাম সামান্য কমলেও চিনি-তেল-আটা-ডিমে নাভিশ্বাস ১২৫ কোটি টাকায় চেলসিতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন কক্সবাজারে হোটেলের বারে পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ২

সালমান শাহ হত্যা: তিন কারণে খলনায়ক ডনকে রিমান্ডে চায় সিআইডি, শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি আজ (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনটি কারণ দেখিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে করা মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। তার মা ১৯৯৬ সাল থেকেই মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে সিআইডি বলেছে, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কী কারণে এবং কার ইন্ধনে বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য জানার জন্যও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। পরে ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

যেভাবে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহের মৃত্যু হয়। প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।

আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে তার বাবা ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন।

সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। পরে দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সালমান শাহ হত্যা: তিন কারণে খলনায়ক ডনকে রিমান্ডে চায় সিআইডি, শুনানি আজ

প্রকাশের সময় : ১১:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি আজ (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনটি কারণ দেখিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে করা মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। তার মা ১৯৯৬ সাল থেকেই মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে সিআইডি বলেছে, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কী কারণে এবং কার ইন্ধনে বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য জানার জন্যও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। পরে ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

যেভাবে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহের মৃত্যু হয়। প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।

আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে তার বাবা ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন।

সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। পরে দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।