Dhaka ০২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অন্যতম সেরা জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র চার দিনেই ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নজির গড়েছে।

ডারউইনের এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের আগেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের বোলারদের এমন আধিপত্য ছিল ম্যাচের অন্যতম বড় চমক।

জবাবে ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম তুলে নেন ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের ইনিংস পায় শক্ত ভিত। টেলএন্ডারদের কার্যকর অবদানে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড নেয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি করে স্বাগতিকদের কিছুটা স্বস্তি দেন। তবে বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিক চাপ ধরে রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার লিড বড় হতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম আউট হয়ে গেলেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

ম্যাচের ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল হক। তিনি ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে সাদমান ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে। দুজন মিলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন।

বল হাতে ম্যাচের সেরা পারফরমার ছিলেন হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই মূলত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর খেলতে এসে এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও মূল ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, প্রস্তুতি ম্যাচের ফল নয়—চূড়ান্ত লড়াইয়ের পারফরম্যান্সই আসল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

প্রকাশের সময় : ১১:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অন্যতম সেরা জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র চার দিনেই ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নজির গড়েছে।

ডারউইনের এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের আগেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের বোলারদের এমন আধিপত্য ছিল ম্যাচের অন্যতম বড় চমক।

জবাবে ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম তুলে নেন ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের ইনিংস পায় শক্ত ভিত। টেলএন্ডারদের কার্যকর অবদানে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড নেয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি করে স্বাগতিকদের কিছুটা স্বস্তি দেন। তবে বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিক চাপ ধরে রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার লিড বড় হতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম আউট হয়ে গেলেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

ম্যাচের ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল হক। তিনি ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে সাদমান ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে। দুজন মিলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন।

বল হাতে ম্যাচের সেরা পারফরমার ছিলেন হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই মূলত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর খেলতে এসে এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও মূল ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, প্রস্তুতি ম্যাচের ফল নয়—চূড়ান্ত লড়াইয়ের পারফরম্যান্সই আসল।