বাতিল হচ্ছে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ‘১৮ক’ ধারা
- প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 11
তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ থেকে ১৮ক ধারাটি বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সরকার।
এ লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলে তা নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
যে কারণে বাতিল হচ্ছে ১৮ক ধারা
ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮ক ধারার সকল শর্ত পরিপালন করে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এই ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যেই মূলত সংশোধনীর খসড়াটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
আইনটির পেক্ষাপট
এর আগে তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনও ঝুঁকির সময়োপযোগী সমাধান ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হলে তা বিশদ পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় ‘বিশেষ কমিটি’র কাছে পাঠানো হয়।
ওই বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করে। কমিটির সুপারিশের আলোকে অধ্যাদেশের কয়েকটি বিধান বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য আলাদা করা হয়। এছাড়া, সরকারের আর্থিক দায়ভার, গ্রাহকদের স্বার্থ এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইনে নতুন ‘ধারা ১৮ক’ সংযোজন করে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং উত্থাপিত আকারেই ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ পাস হয়।
কী ছিল ১৮ক ধারায়
প্রচলিত রেজল্যুশন টুলগুলোর পাশাপাশি একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা প্রচলনের লক্ষ্যে ধারাটি সংযোজন করা হয়েছিল। রেজল্যুশনের আওতাধীন ব্যাংককে সচল রেখে এর পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট দূরীকরণ, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি আর্থিক সংশ্লেষ কমানোই ছিল এই ধারার মূল লক্ষ্য। তবে শর্ত পূরণে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত এটি বাতিলের পথেই হাঁটল সরকার।























