শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 83

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসমাইল বাকেই বলেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য পদক্ষেপের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ‘ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার কারণগুলো এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ, আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী ইরনাকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নতুন নৌপথটি অস্থায়ী হবে। এটি দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘খুব শিগগিরই’ খুলে দেওয়া না হলে ইরান ‘ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না এবং এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাও নেই।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের ইরানের হুমকিও দুই পক্ষের মতবিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করছে ইরান। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শুল্ক আরোপের পক্ষে নয়।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসমাইল বাকেই বলেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য পদক্ষেপের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ‘ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার কারণগুলো এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ, আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী ইরনাকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নতুন নৌপথটি অস্থায়ী হবে। এটি দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘খুব শিগগিরই’ খুলে দেওয়া না হলে ইরান ‘ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না এবং এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাও নেই।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের ইরানের হুমকিও দুই পক্ষের মতবিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করছে ইরান। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শুল্ক আরোপের পক্ষে নয়।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।