Dhaka ০৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নওগাঁ সীমান্তে ১৯ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার বাড়িভাড়া আকাশছোঁয়া, বিক্ষোভে উত্তাল স্পেনের রাজপথ দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অবকাঠামো সংস্কারে অংশ নিতে চায় বিশ্বব্যাংক

জবিতে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জাতীয় ছাত্রশক্তির ৫ দফা দাবি

জবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 106

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশক্তি, জকসু, শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর ও বাস্তবায়ন, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখা।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:- দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে; ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে; হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; এবং সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তারা এ ঘটনাকে অতীতের স্বৈরাচারী আমলের ক্যাম্পাস বন্ধের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।

এ বিষয়ে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস দখল করে সেগুলোকে টর্চার সেলে পরিণত করেছিল। একইভাবে বর্তমান সরকারের ইঙ্গিতে ছাত্রদলও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দখলে নিতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “গতকালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল যৌথভাবে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের বা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সব মানুষের এবং শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ছাত্রদলকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, “প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রদলকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপরও ছাত্রদল হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী ও দেশের মানুষের ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও ক্যাম্পাসের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “গতকালের হামলার জন্য ছাত্রদলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায়ী। ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ৬০-এর বেশি শিক্ষার্থী হামলায় আহত হয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের সদস্যদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে জাতীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন শাহিন মিয়া। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার এবং হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান।

এর আগে, ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নসহ ক্যাম্পাসের সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকালে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জবি শাখার সভাপতি, জকসুর ভিপিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জবিতে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জাতীয় ছাত্রশক্তির ৫ দফা দাবি

প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশক্তি, জকসু, শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর ও বাস্তবায়ন, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখা।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:- দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে; ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে; হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; এবং সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তারা এ ঘটনাকে অতীতের স্বৈরাচারী আমলের ক্যাম্পাস বন্ধের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।

এ বিষয়ে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস দখল করে সেগুলোকে টর্চার সেলে পরিণত করেছিল। একইভাবে বর্তমান সরকারের ইঙ্গিতে ছাত্রদলও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দখলে নিতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “গতকালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল যৌথভাবে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের বা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সব মানুষের এবং শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ছাত্রদলকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, “প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রদলকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপরও ছাত্রদল হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী ও দেশের মানুষের ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও ক্যাম্পাসের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “গতকালের হামলার জন্য ছাত্রদলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায়ী। ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ৬০-এর বেশি শিক্ষার্থী হামলায় আহত হয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের সদস্যদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে জাতীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন শাহিন মিয়া। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার এবং হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান।

এর আগে, ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নসহ ক্যাম্পাসের সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকালে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জবি শাখার সভাপতি, জকসুর ভিপিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।