দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘জিনের কথায়’ জীবিত ভেবে তোলা হলো মরদেহ
- প্রকাশের সময় : ১০:২০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 15
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দাফনের ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধা নারীকে জীবিত আছেন—এমন দাবিতে কবর থেকে তাঁর মরদেহ তুলে হাসপাতালে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, ওই নারী মৃত। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত নারীর নাম হালিমা খাতুন। তিনি উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর মাহমুদপুর এলাকার সোহরাব আকন্দের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মারা যান। শনিবার সকাল ৮টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দাফনের পর হালিমা খাতুনের এক মেয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে দাবি করতে থাকেন, ‘জিন’ তাঁকে জানিয়েছেন তাঁর মা এখনো জীবিত আছেন। এ কথা বলার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বিশ্বাস করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কবর খুঁড়ে হালিমা খাতুনের মরদেহ তুলে আনেন। পরে মরদেহটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মেলান্দহের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর স্বজনেরা তাঁকে জামালপুর পৌর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও ইসিজি পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, হালিমা খাতুন মারা গেছেন।
চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করার পর স্বজনেরা মরদেহটি আবার বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাঁরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে ওই রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
এদিকে দাফনের পরও হালিমা খাতুন কবরে জীবিত আছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর বাড়িতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক জানান, ওই নারী জীবিত থাকার বিষয়টির কোনো সত্যতা নেই। বিষয়টি গুজব। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।




















