কাল থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক
- প্রকাশের সময় : ০৫:১১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 9
দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।
নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে নতুন যানবাহনের নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।
সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে দেশের সড়কে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব যানবাহনে এটি শতভাগ কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এজন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যাতে সহজেই কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করে সুশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।



















