Dhaka ০১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ফিফা ঘোষিত বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’, ভিডিও-সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : মির্জা ফখরুল এসএসসি’র ফল প্রকাশে বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, একজন কারাগারে পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঔষধ কারচুপির প্রতিবাদে জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে মানববন্ধন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজবাড়ীতে সিপিবি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

নওগাঁ সদরে ভাগিদারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের দাবি

খোরশেদ আলম, নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • / 54

নওগাঁ সদর উপজেলার পিরোজপুর মৌজায় পৈত্রিক ভাগিদারি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোনালিসা হাবিব।

বুধবার (২২ জুলাই) নওগাঁ শহরের সুলতানপুর বটতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মোনালিসা হাবিব বলেন, দলিল ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পিরোজপুর মৌজার একাধিক দাগের জমি তিনি ও অন্যান্য ওয়ারিশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের নানা মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে অধিকাংশ ওয়ারিশের সম্মতিতে লিখিত বণ্টনের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশ বুঝে নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আমন ধান রোপণের মৌসুমে প্রথম পক্ষের উত্তরসূরি মাসুম ও তার স্ত্রী, নওগাঁ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শিউলী, অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে তার অংশের জমি জোরপূর্বক দখল করেন। এ সময় পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে বর্গাদারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমির সীমানা চিহ্ন অপসারণ, সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মোনালিসা হাবিব জানান, এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ, ৫ মে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন এবং ২১ জুলাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তও করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়ও অভিযুক্তরা পুনরায় জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বগুড়ার তালোড়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় পাঁচ বিঘা বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির একটি অংশ অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দাগের জমির সামনের অংশও জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলমুক্ত করে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার (আইএসটিসি) নওগাঁর কমান্ড্যান্ট ও পুলিশ সুপার তারেক আহম্মেদ বিপিএম (সেবা) বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছেন। তদন্তে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুলিশ পরিদর্শক শিউলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমে তিনি সাড়া দেননি। পরে তিনি যোগাযোগ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়টি তার স্বামী ও তার ওয়ারিশদের পারিবারিক বিষয়। এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। আইন সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। কী করা যায় আর কী করা যায় না, তা আমি জানি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সঠিক তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁ সদরে ভাগিদারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের দাবি

প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ সদর উপজেলার পিরোজপুর মৌজায় পৈত্রিক ভাগিদারি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোনালিসা হাবিব।

বুধবার (২২ জুলাই) নওগাঁ শহরের সুলতানপুর বটতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মোনালিসা হাবিব বলেন, দলিল ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পিরোজপুর মৌজার একাধিক দাগের জমি তিনি ও অন্যান্য ওয়ারিশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের নানা মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে অধিকাংশ ওয়ারিশের সম্মতিতে লিখিত বণ্টনের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশ বুঝে নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আমন ধান রোপণের মৌসুমে প্রথম পক্ষের উত্তরসূরি মাসুম ও তার স্ত্রী, নওগাঁ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শিউলী, অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে তার অংশের জমি জোরপূর্বক দখল করেন। এ সময় পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে বর্গাদারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমির সীমানা চিহ্ন অপসারণ, সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মোনালিসা হাবিব জানান, এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ, ৫ মে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন এবং ২১ জুলাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তও করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়ও অভিযুক্তরা পুনরায় জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বগুড়ার তালোড়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় পাঁচ বিঘা বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির একটি অংশ অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দাগের জমির সামনের অংশও জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলমুক্ত করে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার (আইএসটিসি) নওগাঁর কমান্ড্যান্ট ও পুলিশ সুপার তারেক আহম্মেদ বিপিএম (সেবা) বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছেন। তদন্তে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুলিশ পরিদর্শক শিউলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমে তিনি সাড়া দেননি। পরে তিনি যোগাযোগ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়টি তার স্বামী ও তার ওয়ারিশদের পারিবারিক বিষয়। এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। আইন সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। কী করা যায় আর কী করা যায় না, তা আমি জানি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সঠিক তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”