Dhaka ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নওগাঁ সদরে ভাগিদারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের দাবি

খোরশেদ আলম, নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • / 179

নওগাঁ সদর উপজেলার পিরোজপুর মৌজায় পৈত্রিক ভাগিদারি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোনালিসা হাবিব।

বুধবার (২২ জুলাই) নওগাঁ শহরের সুলতানপুর বটতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মোনালিসা হাবিব বলেন, দলিল ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পিরোজপুর মৌজার একাধিক দাগের জমি তিনি ও অন্যান্য ওয়ারিশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের নানা মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে অধিকাংশ ওয়ারিশের সম্মতিতে লিখিত বণ্টনের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশ বুঝে নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আমন ধান রোপণের মৌসুমে প্রথম পক্ষের উত্তরসূরি মাসুম ও তার স্ত্রী, নওগাঁ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শিউলী, অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে তার অংশের জমি জোরপূর্বক দখল করেন। এ সময় পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে বর্গাদারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমির সীমানা চিহ্ন অপসারণ, সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মোনালিসা হাবিব জানান, এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ, ৫ মে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন এবং ২১ জুলাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তও করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়ও অভিযুক্তরা পুনরায় জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বগুড়ার তালোড়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় পাঁচ বিঘা বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির একটি অংশ অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দাগের জমির সামনের অংশও জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলমুক্ত করে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার (আইএসটিসি) নওগাঁর কমান্ড্যান্ট ও পুলিশ সুপার তারেক আহম্মেদ বিপিএম (সেবা) বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছেন। তদন্তে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুলিশ পরিদর্শক শিউলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমে তিনি সাড়া দেননি। পরে তিনি যোগাযোগ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়টি তার স্বামী ও তার ওয়ারিশদের পারিবারিক বিষয়। এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। আইন সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। কী করা যায় আর কী করা যায় না, তা আমি জানি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সঠিক তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁ সদরে ভাগিদারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের দাবি

প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ সদর উপজেলার পিরোজপুর মৌজায় পৈত্রিক ভাগিদারি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোনালিসা হাবিব।

বুধবার (২২ জুলাই) নওগাঁ শহরের সুলতানপুর বটতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মোনালিসা হাবিব বলেন, দলিল ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পিরোজপুর মৌজার একাধিক দাগের জমি তিনি ও অন্যান্য ওয়ারিশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের নানা মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে অধিকাংশ ওয়ারিশের সম্মতিতে লিখিত বণ্টনের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশ বুঝে নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আমন ধান রোপণের মৌসুমে প্রথম পক্ষের উত্তরসূরি মাসুম ও তার স্ত্রী, নওগাঁ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শিউলী, অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে তার অংশের জমি জোরপূর্বক দখল করেন। এ সময় পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে বর্গাদারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমির সীমানা চিহ্ন অপসারণ, সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মোনালিসা হাবিব জানান, এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ, ৫ মে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন এবং ২১ জুলাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তও করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়ও অভিযুক্তরা পুনরায় জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বগুড়ার তালোড়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় পাঁচ বিঘা বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির একটি অংশ অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দাগের জমির সামনের অংশও জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলমুক্ত করে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার (আইএসটিসি) নওগাঁর কমান্ড্যান্ট ও পুলিশ সুপার তারেক আহম্মেদ বিপিএম (সেবা) বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছেন। তদন্তে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুলিশ পরিদর্শক শিউলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমে তিনি সাড়া দেননি। পরে তিনি যোগাযোগ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়টি তার স্বামী ও তার ওয়ারিশদের পারিবারিক বিষয়। এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। আইন সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। কী করা যায় আর কী করা যায় না, তা আমি জানি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সঠিক তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”