সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের বাসায় ফের দুদকের অভিযান
- প্রকাশের সময় : ০১:১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / 12
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটির সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করছে। রোববার শুরু হওয়া অভিযানে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যাওয়ায় সোমবারও ইনভেন্টরির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি জানান।
রোববারের অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গয়না, চারটি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়িগুলোর ক্রয়রসিদ অনুযায়ী প্রতিটির মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে জানা গেছে।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। বর্তমানে উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমীলা জামান এবং ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই আদালতের নির্দেশে গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার হিসেবে দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও সম্পদের তালিকা তৈরির সময় গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা বলে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়।



















