Dhaka ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

মিটিং শেষে গালিগালাজ করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তবে আমি ক্ষুব্ধ নই: সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 101

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বৈঠক শেষে বাইরে গিয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনকে গালিগালাজ করেছেন। তবে এতে তারা ক্ষুব্ধ নন।

সোমবার রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোটার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, “মিটিং শেষ করে বাইরে গিয়ে আমাদের গালিগালাজ করেছেন উনি (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী)। তবে আমরা একদমই ক্ষুব্ধ নই। আমরা তার গালিতে অভ্যস্ত। আপনাদের কাছে নতুন হতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে নয়। উনার কথা শুনতে শুনতে আমরা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছি। তবে এটা একটা রেয়ার কোয়ালিটি।”

তিনি বলেন, “যে নির্বাচন হয়েছে, তার বিচারের ভার দেশবাসীর ওপর। সেটার মূল্যায়নে আমি যাচ্ছি না। অতীতে সবাই একজনের পক্ষে কথা বলতে বলতে বিষয়টিকে বিপ্লবের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।”

এর আগে অনুষ্ঠানে সিইসির উপস্থিতিতেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিচার হবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিইসি বলেন, “রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে বসে সমাধান করতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষ দাঁড়ালে তো কারবালা হয়ে যাবে।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন তো দেখছি দলগুলো মনোনয়ন দিচ্ছে। এতে আমার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। কাজেই আপনারা বসে ফয়সালা করুন। আমাদের পক্ষ থেকে শতভাগ স্বচ্ছতার আশ্বাস দিতে পারি। আমাদের বোঝার ঘাটতি থাকতে পারে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো ঘাটতি নেই।”

ভোটার তালিকা নিয়ে সিইসি বলেন, এখনও নারীদের একটি বড় অংশ ভোটার তালিকার বাইরে রয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “১৩ কোটি ভোটার নিয়ে নির্বাচন আয়োজন সহজ বিষয় নয়। বিপ্লবের পরে পুলিশসহ অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যকর ছিল না। তারপরও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা ছিল সবার। যেখানে গেছি, জনগণকে মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি।”

সবশেষে সিইসি বলেন, “সর্বোপরি বিচারের ভার দেশবাসীর কাছে রইল। আর আল্লাহ তো বিচার করবেই।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মিটিং শেষে গালিগালাজ করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তবে আমি ক্ষুব্ধ নই: সিইসি

প্রকাশের সময় : ০৪:০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বৈঠক শেষে বাইরে গিয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনকে গালিগালাজ করেছেন। তবে এতে তারা ক্ষুব্ধ নন।

সোমবার রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোটার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, “মিটিং শেষ করে বাইরে গিয়ে আমাদের গালিগালাজ করেছেন উনি (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী)। তবে আমরা একদমই ক্ষুব্ধ নই। আমরা তার গালিতে অভ্যস্ত। আপনাদের কাছে নতুন হতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে নয়। উনার কথা শুনতে শুনতে আমরা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছি। তবে এটা একটা রেয়ার কোয়ালিটি।”

তিনি বলেন, “যে নির্বাচন হয়েছে, তার বিচারের ভার দেশবাসীর ওপর। সেটার মূল্যায়নে আমি যাচ্ছি না। অতীতে সবাই একজনের পক্ষে কথা বলতে বলতে বিষয়টিকে বিপ্লবের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।”

এর আগে অনুষ্ঠানে সিইসির উপস্থিতিতেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিচার হবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিইসি বলেন, “রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে বসে সমাধান করতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষ দাঁড়ালে তো কারবালা হয়ে যাবে।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন তো দেখছি দলগুলো মনোনয়ন দিচ্ছে। এতে আমার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। কাজেই আপনারা বসে ফয়সালা করুন। আমাদের পক্ষ থেকে শতভাগ স্বচ্ছতার আশ্বাস দিতে পারি। আমাদের বোঝার ঘাটতি থাকতে পারে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো ঘাটতি নেই।”

ভোটার তালিকা নিয়ে সিইসি বলেন, এখনও নারীদের একটি বড় অংশ ভোটার তালিকার বাইরে রয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “১৩ কোটি ভোটার নিয়ে নির্বাচন আয়োজন সহজ বিষয় নয়। বিপ্লবের পরে পুলিশসহ অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যকর ছিল না। তারপরও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা ছিল সবার। যেখানে গেছি, জনগণকে মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি।”

সবশেষে সিইসি বলেন, “সর্বোপরি বিচারের ভার দেশবাসীর কাছে রইল। আর আল্লাহ তো বিচার করবেই।”