পাকিস্তানের ‘যম’ লিটন
- প্রকাশের সময় : ১০:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 7
বাংলাদেশের বিপক্ষে বারবার জয়ের মঞ্চ তৈরি করেও শেষ হাসি হাসতে পারে না পাকিস্তান। কারণ, মাঝখানে দাঁড়িয়ে যান লিটন দাস। দল যখন ধ্বংসস্তূপের কিনারায়, তখনই ব্যাট হাতে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ত্রাণকর্তা। আর পাকিস্তানের জন্য যেন এক দুঃস্বপ্ন।
সিলেট টেস্টেও দেখা গেল সেই চেনা দৃশ্য। বাংলাদেশের টপ অর্ডার ধসে পড়েছে, স্কোরবোর্ডে মাত্র ১১৬ রান তুলতেই নেই ৬ উইকেট। পাকিস্তানি বোলাররা তখন উড়ছে। মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানে লিড নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সেই পথ আটকে দিলেন লিটন। তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলামদের সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরালেন তিনি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে লিটনের ব্যাট যেন আলাদা ভাষায় কথা বলে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬ সেঞ্চুরির মধ্যে ৩টিই এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও করেছিলেন এই দলের বিপক্ষেই, ২০২১ সালে চট্টগ্রামে। সেবারও বাংলাদেশ ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল। সেই সংকটে মুশফিকুর রহিম-এর সঙ্গে ২০৬ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন লিটন। খেলেছিলেন ১১৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
রাওয়ালপিন্ডিতেও একই গল্প। দলীয় ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশের ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছিল, তখন আবারও ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ-কে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ১৬৫ রানের জুটি গড়ে করেন ১৩৮ রান। সেই ইনিংসেই পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল।
সিলেটে তার সর্বশেষ ইনিংসটিও ছিল চোখ জুড়ানো। ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১২৬ রানের ইনিংসে ছিল হুক, পুল, কাভার ড্রাইভ, সুইপ—একজন পরিণত ব্যাটারের সব রকম শিল্প। পাকিস্তানের কিংবদন্তি রমিজ রাজা ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে এক শব্দে ইনিংসটিকে বলেছেন “মাস্টারক্লাস”। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ইয়ান বিশপ-এর পুরোনো মন্তব্য যেন আবারও সত্যি হয়ে উঠল—“লিটন যখন ব্যাট করে, মনে হয় মোনালিসার কোনো চিত্রকর্ম দেখছি।”
অবশ্য এই ইনিংসে ভাগ্যও দুইবার সহায় ছিল লিটনের। ৩২ রানে সাজিদ খানের বলে ক্যাচ উঠলেও জীবন পান। পরে ৫২ রানে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ক্যাচের আবেদন করলেও পাকিস্তান রিভিউ নেয়নি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লিটনের গ্লাভস ছুঁয়েছিল।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটার এখন লিটনই। মাত্র ৭ টেস্টে করেছেন ৬৫০ রান। রয়েছে ৩টি সেঞ্চুরি ও ২টি ফিফটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে তার গড় ৫৯-এর বেশি, যা এশিয়ার অনেক কিংবদন্তি ব্যাটারের চেয়েও উজ্জ্বল। কমপক্ষে ১০ ইনিংস খেলা এশিয়ান ব্যাটারদের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে গড়ে তার ওপরে আছেন কেবল বীরেন্দর শেবাগ ও কুমার সাঙ্গাকারা।
তাই পাকিস্তান যখনই বাংলাদেশের বিপক্ষে আধিপত্যের স্বপ্ন দেখে, তখনই সামনে এসে দাঁড়ান একজন—লিটন দাস। বাংলাদেশের জন্য তিনি ভরসার নাম, আর পাকিস্তানের জন্য যেন সত্যিকারের ‘যম’।





















