Dhaka ০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মান্দায় ৬ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের বিভ্রান্তিকর তথ্যে ক্ষুব্ধ ঢাকা সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারির জন্য চিঠি সিজদায় ইস্তিগফার পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন মধুখালীতে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন ‘খদরে’ খাসি কাণ্ডে নতুন মোড়, সেই জামাইয়ের ফর্দনামা প্রকাশ ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যেতে হবে : অর্থমন্ত্রী ওসি-কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই বলা সেই এসআইকে প্রত্যাহার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকার নতুন ঘর দিচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩

শিগগিরই আসছে হামের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / 97

 

দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’

সরকার ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ইউনিসেফকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশে টিকা আসা শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হবে।

জনগণের উদ্দেশে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।’

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, টিকার অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে প্রদান করা হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন পেলেই দ্রুত টিকা দেশে আনা হবে। টিকা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

এদিকে, টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শিগগিরই আসছে হামের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’

সরকার ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ইউনিসেফকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশে টিকা আসা শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হবে।

জনগণের উদ্দেশে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।’

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, টিকার অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে প্রদান করা হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন পেলেই দ্রুত টিকা দেশে আনা হবে। টিকা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

এদিকে, টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।