Dhaka ১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চার দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস আমার এখনো বিয়ে হয়নি : পূজা চেরি নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদ পেলেন ভারতের সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ ঢাকায় আর্জেন্টাইন তারকা ক্যানিজিয়া, প্রত্যাশা বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই চ্যালেঞ্জ : প্রধানমন্ত্রী প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৮৫ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড নাজমুন নাহারের আজ চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’, ঢাকার ৯ রুটে মিলবে সেবা

পাঁচ গুণেরও বেশি টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত বাংলাদেশিরা, জাতিসংঘের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 69

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের অব্যাহত শোষণ, প্রতারণা ও ঋণের ফাঁদে আটকা পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জেনেভা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মালয়েশিয়ায় প্রতারণামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কর্মীদের ওপর শোষণ এখনো ব্যাপকভাবে চলমান। অধিক ফি প্রদানের পরও হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী আটকা পড়েছেন বা শোষণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস (বোয়েস) এর মাধ্যমে প্রেরিত কর্মীরা সরকারি নির্ধারিত ফি এর পাঁচ গুণেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে কর্মীদের ওপর চলতে থাকা নানা গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: নিয়োগকর্তাদের দ্বারা কর্মীদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া, চুক্তির শর্ত ও বাস্তব কর্মসংস্থানের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি, কর্মীদের সম্মতি ছাড়াই পাসপোর্ট নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদানে দায়িত্বশীল সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা সন্তোষজনক নয়, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া—উভয় সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীরা যাতে পুনরায় শোষণের শিকার না হন, সেজন্য কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ সরকারকে কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে প্রস্থান–পূর্ব প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা তৈরি করারও সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতারক নিয়োগ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে অভিবাসীরা বারবার একই অন্যায়ের শিকার হবেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পাঁচ গুণেরও বেশি টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত বাংলাদেশিরা, জাতিসংঘের উদ্বেগ

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের অব্যাহত শোষণ, প্রতারণা ও ঋণের ফাঁদে আটকা পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জেনেভা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মালয়েশিয়ায় প্রতারণামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কর্মীদের ওপর শোষণ এখনো ব্যাপকভাবে চলমান। অধিক ফি প্রদানের পরও হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী আটকা পড়েছেন বা শোষণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস (বোয়েস) এর মাধ্যমে প্রেরিত কর্মীরা সরকারি নির্ধারিত ফি এর পাঁচ গুণেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে কর্মীদের ওপর চলতে থাকা নানা গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: নিয়োগকর্তাদের দ্বারা কর্মীদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া, চুক্তির শর্ত ও বাস্তব কর্মসংস্থানের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি, কর্মীদের সম্মতি ছাড়াই পাসপোর্ট নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদানে দায়িত্বশীল সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা সন্তোষজনক নয়, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া—উভয় সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীরা যাতে পুনরায় শোষণের শিকার না হন, সেজন্য কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ সরকারকে কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে প্রস্থান–পূর্ব প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা তৈরি করারও সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতারক নিয়োগ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে অভিবাসীরা বারবার একই অন্যায়ের শিকার হবেন।